নেট রান রেটের মারপ্যাঁচ!

প্রকাশিত: ১৮:১৩, ১৪ নভেম্বর ২০২১

আপডেট: ২০:৫৮, ১৪ নভেম্বর ২০২১

নেট রান রেটের মারপ্যাঁচ!

কোন একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে দুই দলের পয়েন্ট যখন সমান হয়ে যায়, কে এগিয়ে তা নির্ধারিত হয় নেট রান রেটের ভিত্তিতে। চাইলে আপনিও খুব সহজে, মোবাইলের ক্যালকুলেটর চেপে নেট রান রেটের হিসাব করে ফেলতে পারবেন। কীভাবে? জেনে নিন এখনই!

রান রেট কিভাবে হিসেব করতে হয়, তা আমরা সবাই কম বেশি জানি। তবুও এখানে একটু বলে নেওয়া ভালো, কারণ নেট রান রেট বুঝতে হলে আগে রান রেট বোঝাটা জরুরি।

ধরুন, ২০ ওভারে কোন দল ১২০ রান করলো, তখন সেই দলের রান রেট হয়, ছয়। অর্থাৎ মোট রানকে মোট ওভার দিয়ে ভাগ করলেই গড় রান রেট বের করা যায়।

এবার আসি নেট রান রেটের হিসাবে। এটি বের করাও খুব জটিল নয়। বাড়তি বলতে, আপনাকে দুয়েকটি যোগ-বিয়োগ করে নিতে হবে, এই যা! চলুন একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বুঝি।

কোন একটি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে ২০ ওভারে করলো ১৬০ রান। তাহলে বাংলাদেশের রান রেট হলো আট। জবাবে ভারত করলো ১৫০ রান, ২০ ওভারেই। তখন ভারতের গড় রান রেট হবে ৭ দশমিক পাঁচ শুন্য। এবার আপনি বাংলাদেশের মোট রান রেট থেকে ভারতের মোট রান রেট বাদ দিলেই আপনি পেয়ে যাবেন এই ম্যাচে বাংলাদেশের নেট রান রেট। অর্থাৎ বাংলাদেশের নেট রান রেট হচ্ছে প্লাস শূণ্য দশমিক পাঁচ।

নেট রান রেটের হিসাবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দল যদি অল আউট হয়ে যায়, তখন সেই ইনিংসে মোট রানকে যত ওভারের খেলা, তত দিয়ে ভাগ করতে হবে।

অর্থাৎ ৫০ ওভারের খেলায় কোনো  দল যদি ২৫ ওভারেই ১২০ রান করে অল আউট হয়ে যায়। তখন নেট রান রেট বের করতে ১২০ রানকে ৫০ ওভার দিয়েই ভাগ করতে হবে।

যাই হোক, ফর্মূলাটি খুব সহজ। এক কথায়: একটি দলের রান রেট থেকে প্রতিপক্ষের রান রেট বিয়োগ করে নেট রান রেট পাওয়া যায়। আর অল আউট হয়ে গেছে ওভারের পূর্ণাঙ্গ কোটা দিয়েই রানকে ভাগ করতে হয়।

নেট রান রেটের হিসাব তো বুঝলেন, এর প্রকৃত খেলাটা আসলে টুর্নামেন্টে। সেটি লীগ হোক বা গ্রুপভিত্তিক। কারণ পয়েন্ট টেবিলে যখন দুই বা বেশি দলের পয়েন্ট সমান হয়ে যায়, তখন কোন দল আগে থাকবে আর কোন দল পরে -- সেটি ঠিক করা হয় নেট রান রেটের মাধ্যমে।

আর গ্রুপ বা লীগের বেলায় এসে নেট রান রেট আর একটি ম্যাচের বিষয় থাকে না। তখন গোটা টুর্নামেন্টে একটি দল যত রান করেছে, এবং যত ওভার খেলেছে তার ভিত্তিতে হিসাব হয়। উদাহরণ দিলে আরো পরিস্কার হবে।

ধরা যাক ২০২১ টি২০ বিশ্বকাপে একটি গ্রুপে চার দল আছে। বাংলাদেশ, ওমান, স্কটল্যান্ড আর পাপুয়া নিউ গিনি। প্রত্যেকে যেহেতু প্রত্যেকের সাথে খেলবে, তার মানে প্রত্যেকে আসলে ৩টি করে ম্যাচ খেলবে। দুইটি ম্যাচ শেষে দেখা গেলো পয়েন্ট টেবিলে স্কটল্যান্ড পেয়েছে ৪ পয়েন্ট। বাংলাদেশ ও ওমান দু’দলই পেয়েছে ২ পয়েন্ট। পাপুয়া নিউ গিনি কোনো পয়েন্ট পায়নি। তো এখন বাংলাদেশ ও ওমানের মাঝে কোন দল দুই নম্বর পজিশন পাবে সেটি ঠিক করতে নজর দিতে হবে নেট রান রেটে।

প্রথমে বাংলাদেশেরটা হিসাব করে ফেলি।

ধরা যাক প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ১৩৪ রান করেছে; আর দ্বিতীয় ম্যাচে ২০ ওভারে করেছে ১৫৩ রান। তাহলে দুই ম্যাচে বাংলাদেশ করেছে, ১৩৪ + ১৫৩ = ২৮৭ রান। খেলেছে ২০ + ২০ = ৪০ ওভার। রান রেট তো হিসাব করতে জানেন-ই। ওভারপ্রতি রান; অর্থাৎ, ২৮৭ / ৪০ = ৭.১৭৫।

এ দুই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দল করেছে যথাক্রমে ২০ ওভারে ১৪০ ও ২০ ওভারে ১২৭ রান। অর্থাৎ মোট রান ১৪০ + ১২৭ = ২৬৭। করেছে ৪০ ওভারে। একইভাবে রান রেট বের করলে দেখা যাবে রান রেট হয়েছে ৬.৬৭৫।

তাহলে এখন নিজেদের রান রেট থেকে প্রতিপক্ষের রান রেট বিয়োগ করে ফেললেই পাওয়া যাবে নেট রান রেট। সুতরাং বাংলাদেশের নেট রান রেট হবে ৭.১৭৫ - ৬.৬৭৫ = ০.৫।

একইভাবে ধরা যাক ওমানের নেট রান রেট পাওয়া গেলো +০.৬১৩। তাহলে কার নেট রান রেট বেশি হলো? ওমানের। তাই ওমানকেই দেওয়া হবে দ্বিতীয় স্থান; আর বাংলাদেশ যাবে পরে।

বাস! এটাই নেট রান রেট! কী দেখলেন? এখানে এক দলের নেট রান রেটের ওপরে উইকেট পতনের হিসাব বা কোনো এক নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষের রান রেটের হিসাবের কোনো গুরুত্বই নেই। পুরো টুর্নামেন্টের একটি দলের সবগুলো ম্যাচের মোট রান ও মোট ওভারের হিসাবেই নেট রান রেট পাওয়া যায়। সব ম্যাচকে গুরুত্বে এনে টাই ভেঙ্গে দেওয়ার একটা ফর্মূলা হিসেবে নেট রান রেট এখন পর্যন্ত ক্রিকেটে পাওয়া সবচেয়ে টেকসই সমাধান। একটি দলের নেট রান রেটে কোনো প্রভাব পড়বে না যদি কোনো ম্যাচ পরিত্যাক্ত হয় বা টাই হয়। তবে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে যেহেতু ডাকওয়ার্থ ও লুইস সাহেবের ভূমিকা থাকে তাই তখন রান ও ওভারের হিসাবেও কিছু ঝামেলা পাকিয়ে যায়। সেটি নাহয় অন্য কোনো দিন বোঝা যাবে!

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত

    আরো পড়ুন