আর্কটিক সার্কেল থেকে এসে ইউরোপ কাঁপাল বোদো
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নরওয়ের ক্লাব বোদো/গ্লিম্ট বারবার অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখাচ্ছে। নরওয়েরে দলটি আগেও চমক দেখিয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে মিলানে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে তারা চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসের অন্যতম বড় চমক উপহার দিয়েছে।
নকআউট পর্বের প্লে-অফের ফিরতি লেগে সান সিরোয় তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানের মুখোমুখি হয় বোদো। যদিও প্রথম লেগে ৩-১ গোলে এগিয়ে ছিল তারা। কিন্তু গত আসরের রানার্স-আপদের বিপক্ষে শেষ ষোলো নিশ্চিতের কাজটা মোটেও সহজ ছিল না।
লিগপর্বের শেষ দুই ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটি ও আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার ২৩ নম্বরে থেকে নকআউট পর্বের প্লে-অফ নিশ্চিত করে বোদো। শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ গ্রুপপর্ব শেষ করেছিল তালিকার দশম স্থানে থেকে।
শেষ ষোলো নিশ্চিতের অভিযানে ইতালিতে বোদো ছিল দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী। প্রথমার্ধে ইন্টারের একের পর এক আক্রমণ ঠেকানোর পর দুটি গোল করে তারা ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় এবং দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ গোলের ব্যবধানে জিতে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় নরওয়ের ক্লাবটি। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ম্যানচেস্টার সিটি অথবা স্পোর্তিং লিসবন।
দলের এই সাফল্যে কোচ কিয়েতিল নুটসেন বলেন, “এটা বোদোর জন্য এবং আমার মতে নরওয়ের ফুটবলের জন্যও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।”
ইয়েন্স পেত্তার হাউগে আবারও ছিলেন দলের অনুপ্রেরণা। নরওয়েজিয়ান এই ফরোয়ার্ড দলের প্রথম গোল করেন এবং হাকন এভিয়েনের করা দ্বিতীয় গোলটিতে রাখেন অবদান।
এমন সাফল্যের পরও দুই বছর এসি মিলানে খেলা হাউগে নিজেদের পা মাটিতেই রাখছেন।
“এটা অবিশ্বাস্য শোনালেও আমরা এখন এই প্রতিযোগিতার শেষ দিকের দলগুলোর মধ্যে আছি। পরবর্তী দুই ম্যাচ কী নিয়ে আসে, সেটা দেখা খুবই রোমাঞ্চকর হবে।”
আর্কটিক সার্কেল থেকে সান সিরো – রূপকথার যাত্রা
লিগ পর্বের প্রথম ছয় ম্যাচে জয় না পাওয়ায় বোদোর এই সাফল্য একসময় অসম্ভবই মনে হচ্ছিল। কেননা লিগপর্বের শেষ দুই ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটি ও আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে তাদের খুব ভালো কিছু করার দরকার ছিল।
সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তারা সেই ফল এনে দেয়। ঘরের মাঠে সিটির বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয় তাদের নতুন পরিচিতি এনে দেয়। এরপর মাদ্রিদে আতলেতিকোকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করে।
গত মৌসুমে তারা ইউরোপা লিগের সেমি-ফাইনালেও উঠেছিল, যা ইউরোপের বড় কোনো প্রতিযোগিতায় নরওয়ের কোনো ক্লাবের জন্য ছিল প্রথম। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তারা টটনাম হটস্পারের কাছে হেরে যায়।
তাদের সাফল্যের একটি বড় কারণ আর্টটিক সার্কেলের প্রায় ৭০ মাইল ভেতরে নিজেদের মাঠের কঠিন পরিবেশ। নরওয়ের উত্তরে তীব্র ঠান্ডা, তুষারপাত ও প্রবল বাতাসের মধ্যে খেলতে হয় দলটিকে, যেখানে তাপমাত্রা প্রায়ই শূন্যের নিচে থাকে।
এই কারণে তারা কৃত্রিম টার্ফের মাঠে খেলে, যা ঘাসের মাঠে অভ্যস্ত দলগুলোর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই কঠিন পরিবেশ, খেলোয়াড়দের দৃঢ় মনোভাব ও আত্মবিশ্বাস – সব মিলিয়ে বড় দলগুলো বোদোর কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে।
পাঁচ বছর আগে ইউরোপা কনফারেন্স লিগে তারা জোসে মরিনিয়োর রোমাকে ৬-১ গোলে হারিয়েছিল। এছাড়া সেল্টিক, বেসিকতাস, পোর্তো ও লাজিও তাদের কাছে হেরেছে।
অধিনায়ক প্যাট্রিক বার্গ বলেন, “এটা অসাধারণ। ক্লাব ও শহরের জন্য এটা অবিশ্বাস্য। অনেকে ভাবেনি আমরা ম্যানচেস্টার সিটি, আতলেতিকো এবং এখন ইন্টারকে হারাতে পারব। এটা সত্যিই দুর্দান্ত।”















মন্তব্য করুন: