এশিয়ান কাপ বাংলাদেশের শেখার মঞ্চ

এশিয়ান কাপ বাংলাদেশের শেখার মঞ্চ

মেয়েদের এএফসি এশিয়ান কাপে শক্তিশালী চীনের কাছে হারলেও বাংলাদেশের লড়াকু পারফরম্যান্স মন জয় করেছে অনেকের। আফঈদা-ঋতুপর্ণারা সমীহ আদায় করে নিয়েছে প্রতিপক্ষেরও। ফলে দলের কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলার স্বপ্নও দেখতে শুরু করেছেন ভক্ত-সমর্থকদের অনেকে। তবে এগুলোকে আকাশকুসুম চিন্তা আখ্যা দিয়ে কোচ পিটার বাটলার জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টে তার দল শিখতে এসেছে, যা তাদের ভবিষ্যতে কাজে দেবে।

সিডনিতে শুক্রবারবি গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় আরেক শক্তিশালী দল উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাটলারের দল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এবারই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল।

ফিফটা ্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের ব্যবধানটা আকাশ-পাতালের। নম্বরে থাকা উত্তর কোরিয়া এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল। অন্যদিকে বাংলাদেশের অবস্থান ১১২ নম্বরে।

গত মঙ্গলবার উজবেকিস্তানকে - গোলে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া। অন্যদিকে চীনের কাছে - গোলে হারা বাংলাদেশ আছে তিন নম্বরে।

কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলতে হলে তিনটি গ্রুপের মধ্যে সেরা দুটি তিন নম্বর দলের মধ্যে থাকতে পারলেও হবে বাংলাদেশকে। তবে বাস্তবতা মেনে এখনই এত বড় স্বপ্ন দেখছেন না বাটলার।

ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “আমরা এখানে আবার এসেছি উত্তর কোরিয়ার মতো খুব-খুব শক্তিশালী একটি দলের মুখোমুখি হতে। তারা টেকনিক্যালি দারুণ দক্ষ এবং সত্যিই খুব প্রতিভাবান দল। আপনি যদি তাদের ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের দিকে তাকান, বুঝতে পারবেন তারাই সম্ভবত এই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট। তো, শুরুতেই আমরা সব কঠিন প্রতিপক্ষগুলোকে পাচ্ছি, তাই না? চীন এবং এবার কোরিয়া। আমাদের নিজেদের সেরা ছন্দে থাকতে হবে।

আমি কোনো ঘোরের মধ্যে নেই; আমি একজন বাস্তববাদী মানুষ এবং জানি যে অনেক দিক থেকেই এই ম্যাচ জেতাটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ হবে। তবে মূল বিষয় হলো নিজের সেরাটা দেওয়া এবং নিজের নিজস্বতা ধরে রাখা।

কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কোচ বলেন, “না, আমি তা মনে করি না। আমি প্রতিটি ম্যাচকে সেভাবেই দেখি, যেভাবে তা সামনে আসে এবং আমি বারবার একই কথা বলতে চাই না। আমরা এখানে আকাশকুসুম কল্পনা নিয়ে আসিনি যে, আমরা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে যাচ্ছি। আমি এটা ভাবতে চাই যে, প্রতিটি ম্যাচে এই মেয়েরা উন্নতি করবে, তারা শিখবে। এটি তাদের জন্য শেখার একটি সুযোগ। তবে প্রশ্নটি যদি করেন, আমরা পারফরম্যান্স আরও উন্নত করতে পারি? হ্যাঁ, অবশ্যই পারি এবং আমি মনে করি আমরা পারব। আমি শুধু চাই, খেলোয়াড়রা মাঠে গিয়ে তাদের সেরাটা দিক এবং সততা নিষ্ঠার সাথে খেলুক।

মন্তব্য করুন: