ফ্রান্সের কাছে হেরে ব্রাজিল কোচ বললেন, আমরা এখন বড় দলের সঙ্গে লড়তে পারি
২৭ মার্চ ২০২৬
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মাঠে নামা ব্রাজিল ১০ জনের ফ্রান্সের কাছে হেরে গেছে। তবে এমন ফলের পরও সন্তুষ্টি প্রকাশ করে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, তার দল এখন বড় দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করতে প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার বোস্টনে ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হারে সেলেসাওরা। প্রথমার্ধে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে যাওয়া ফরাসিরা ৫৫তম মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয়। তবে এই সুযোগ নিতে পারেনি ব্রাজিল।
৬৫তম মিনিটে হুগো একিতিকের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয় ফ্রান্সের। সে সময় জিলেট স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত অধিকাংশ ব্রাজিলিয়ান সমর্থকই দলে অনুপস্থিত নেইমারের নাম ধরে স্লোগান দিতে শুরু করে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে এটিও।
তবে এ বিষয়ে মুখ না খুলে আনচেলত্তি জানান, ব্রাজিলের বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়াগা পাওয়ার জন্য প্রচুর প্রতিযোগিতা রয়েছে।
“আমাদের উচিত তাদের নিয়ে কথা বলা যারা এখানে ছিল, যারা খেলেছে, যারা তাদের সবটুকু দিয়ে দিয়েছে, যারা এগিয়ে এসেছে এবং যারা কঠোর পরিশ্রম করেছে। আমি সন্তুষ্ট।”
আগমী মে মাসে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করার আগে আর একটি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। বাংলাদেশ সময় আগামী বুধবার ভোর ৬টায় অরল্যান্ডোয় ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে তারা।
ফলে সান্তোসের হয়ে নিজের সেরা ছন্দ এবং ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে থাকা নেইমারের বিশ্বকাপে খেলার আশা ক্রমশ ম্লান হয়ে আসছে।
১০ জনের ফ্রান্সের বিপক্ষে জয় না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে দলের পারফরম্যান্সের উন্নতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আনচেলত্তি। ৭৮তম মিনিটে ডিফেন্ডার ব্রেমারের গোলে ব্যবধান কমায় ব্রাজিল।
“আমি মনে করি আজকের ম্যাচটি আমার কাছে এটি খুব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি। এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।”
“আমরা মানসম্পন্ন অনেক শক্তিশালী একটি দলের বিপক্ষে খেলেছি এবং আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি, যেখানে প্রতিপক্ষ জয় নিশ্চিত করতে সময় নষ্ট করছিল। আমি নিশ্চিত যে আমরা আমাদের সবটুকু শক্তি দিয়ে বিশ্বকাপের জন্য লড়াই করব।”
রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসুস জুনিয়র এবং বার্সেলোনার রাফিনিয়া আক্রমণভাগের নেতৃত্বে থাকলেও এই ম্যাচে ব্রাজিলের আক্রমণাত্মক শক্তির অভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিরতির সময় রাফিনিয়াকে তুলে নেওয়ার কারণ হিসেবে পেশির চোটের কথা উল্লেখ করে আনচেলত্তি এই জুটির প্রতি সমর্থন দেন।
“আমি মনে করি রাফিনিয়া খুব ভালো খেলেছে। প্রথমার্ধের শেষে তার কিছু পেশিজনিত অস্বস্তি ছিল এবং আমাদের তাকে পরিবর্তন করতে হয়েছিল। কিন্তু সে অনেক সুযোগ তৈরি করেছিল এবং বল ছাড়া তার মুভমেন্ট ছিল খুবই চমৎকার। আর ভিনি সবসময় চেষ্টা করে। সে সবসময় পার্থক্য গড়ে দেয়। একজন স্ট্রাইকার সবসময় গোল করতে পারে না, তবে তাদের দুজনের করা কাজ ভালো ছিল।”















মন্তব্য করুন: