ম্যাচ হারের পর ফিক্সিংয়ের অভিযোগ সিলেট টাইটান্স উপদেষ্টার

২২ জানুয়ারি ২০২৬

ম্যাচ হারের পর ফিক্সিংয়ের অভিযোগ সিলেট টাইটান্স উপদেষ্টার

সিলেট টাইটান্স উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরী

রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে হেরে ফাইনালে ওঠার সিলেট টাইটান্সের উপদেষ্টার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ফাহিম আল চৌধুরী। এরপর নিজ দলের একজনের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে বিপিএলকে জুয়ার ব্যবসা হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ হয় সিলেটের। ১২ রানে জিতে দ্বিতীয় দল হিসেবে ফাইনালে ওঠে রাজশাহী।

টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি সময়ে সিলেট ফ্র্যাঞ্চাইজিটির উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন ফাহিম। এরপর থেকে বেশ কিছু মন্তব্য করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি।

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হেরে যাওয়ার পর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পদত্যাগের ঘোষণা করে মাঠ ছাড়েন ফাহিম। তবে বোমা ফাটান ফেইসবুক লাইভে। লাইভে কিছু গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি জানান, তার কাছে ফিক্সিংয়ের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। এবং এর সঙ্গে জড়িত আছে তার দলেরই একজন!

প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় সিলেটবাসী, আমি আপনাদেরকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাচ্ছি। আজকের ম্যাচট ভীষণভাবে কলুষিত হয়েছে। আমার কাছে নির্ভরযোগ্য ও প্রমাণাতীত তথ্য এসেছে, ম্যাচের ভেতরে থাকা একজন ব্যক্তি নিজেকে বিক্রি করেছে। সে আমাদের সঙ্গে মিথ্যা বলেছে, সিলেটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, সিলেটের মানুষের আবেগের সঙ্গে সে নিষ্ঠুরভাবে বেইমানি করেছে।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে ফাহিম বলেন, “এর কোনো দরকারই ছিল না। সে চাইলে আমাকে বলতেই পারত, তার কত টাকা প্রয়োজন। তা দেওয়া হয়ে যেত। এই সত্য আমাকে সত্যিকারের ভেঙে দিয়েছে। এই ঘটনা আমি এখানেই থামতে দেব না, বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হবে এবং দায়ীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকের হারটা ছিল পুরো একটা বেইমানির সঙ্গে হার। যারা ম্যাচটা দেখেছেন, আমি আপনাদেরকে আবারও বলব, আপনারা অনেকে বুঝে গেছেন, আমি কী বলতে চাচ্ছি। আপনারা সবাই ভালো থাকেন। এতটুকু আপনাদেরকে জানালাম, এই হারটা আমাদের হার ছিল না, এই হারটা হচ্ছে সম্পূর্ণ কম্প্রোমাইজড। এটা ফিক্সিং ছিল, বেইমানি করা হয়েছে সিলেটের সঙ্গে।

তবে মানুষটা ভুল করে ফেলছে, সে ভুল জায়গায় হাত দিয়েছে। সে আমাদের সিলেটের আবেগের সঙ্গে হাত দিয়ে দিয়েছে। এই বিপিএলটিপিএল সবকিছুই যে একটা বেইমানি, একটা জুয়ার ব্যবসা, এটা আমি আগে থেকে জানতাম। কিন্তু আমাদের সঙ্গে, আমাদের খেলোয়াড়রা সবাই আজকে ডিমোরালাইজড হয়ে গেছে। পুরো সিলেটের মানুষকে কান্না করানো হয়েছে বেইমানের কারণে। আমি কিন্তু তাকে এত সহজভাবে ছাড় দেব না। ভালো থাকেন আপনারা।

পরে অবশ্য ফাহিমের ব্যক্তিগত ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন: