জিম্বাবুয়েকে গুঁড়িয়ে সেমির লড়াইয়ে এগিয়ে গেল উইন্ডিজ
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শিমরন হেটমায়ার ও রভম্যান পাওয়েলের তাণ্ডবে গড়ে দেওয়া ভিতে আড়াইশর বেশি সংগ্রহ তুলে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর সেই কাজটি আরও সহজ করে দেন ক্যারিবিয়ান স্পিনাররা। জিম্বাবুয়েকে ১০৭ রানে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এগিয়ে গেছে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
সোমবার মুম্বাইয়ে সুপার এইটের এক নম্বর গ্রুপের ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ২৫৪ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। লক্ষ্য তাড়ায় ১৪ বল আগে ১৪৭ রানে থামে জিম্বাবুয়ের ইনিংস।
ক্যারিবিয়ানদের হয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়া হেটমায়ার করেন ৮৫ রান। বাঁহাতি এই ব্যাটার তার ৩৪ বলের ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়া ইনিংসটি সাজান ৭টি করে চার ও ছক্কায়।
এই জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেট রানরেট এখন ৫.৩৫০। গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার নেট রানরেট ৩.৮০০। পরের স্থানে থাকা ভারতের নেট রানরেট -৩.৮০০। ফলে শেষ চারে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে জয় ছাড়াও অন্য ম্যাচের ফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এদিন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ গড়ে ক্যারিবিয়ানরা। এর আগে ২০০৭ সালের প্রথম আসরে সর্বোচ্চ ৬ উইকেটে ২৬০ রান করেছিল শ্রীলঙ্কা, কেনিয়ার বিপক্ষে।
পুরো ম্যাচে ছক্কা হয়েছে ৩১টি, যা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ১৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যা টুর্নামেন্টের এক ইনিংসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। ২০১৪ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সমান সংখ্যক ছক্কা হাঁকিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। সেই ম্যাচে মোট ছক্কা হয়েছিল ৩০টি। এতদিন এটিই ছিল টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।
ব্যাটিংয়ে নামা ক্যারিবিয়ানরা পাওয়ারপ্লেতে দুই ওপেনারকে হারিয়ে তুলতে পারে ৫৫ রান। এরপরই ঝড় তোলেন হেটমায়ার-পাওয়েল জুটি। ১৯ বলে ফিফটি হাঁকিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দ্রুততম ফিফটির নিজের রেকর্ড ভেঙে দেন হেটমায়ার। তার বিদায়ে ভাঙে ৫২ বলে ১২২ রানের জুটিটি। ২৯ বলে ফিফটি হাঁকানো পাওয়েল ফেরেন ৫৯ রানে।
দুই ওভারের মধ্যে এই দুই ব্যাটার বিদায় নেওয়ার পর শারফেইন রাদারফোর্ডের অপরাজিত ১৩ বলে ৩১, রোমারিও শেফার্ডের ১০ বলে ২১ এবং জেসন হোল্ডারের ৪ বলে ১৩ রানের ইনিংসে আড়াইশ পার করে ক্যারিবিয়ানরা।
লক্ষ্য তাড়ায় ২০ রানের ভেতর ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের আশা প্রায় শেষ হয়ে যায় জিম্বাবুয়ের। আকিল হোসেন ও গুদাকেশ মোটির ঘূর্ণিতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। একটা সময় ৯ উইকেটে তাদের সংগ্রহ ছিল ১০৩ রান। দশম উইকেটে রিচার্ড এগারাভাকে নিয়ে ৪৪ রানের ঝড়ো জুটিতে পরাজয়ের ব্যবধানট কমান ব্র্যাড ইভান্স। আট নম্বরে নেমে ২১ বলে ৪৩ রান করা ডানহাতি এই ব্যাটারকে তুলে নিয়ে ইনিংসের ইতি টানেন ম্যাথিউ ফোর্ড।
মোটির শিকার ৪ উইকেট, হোসেইন নেন ৩টি।















মন্তব্য করুন: