জিম্বাবুয়েকে গুঁড়িয়ে সেমির লড়াইয়ে টিকে থাকল ভারত
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সেমি-ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না ভারতের সামনে। ব্যাট হাতে ঝড় তুলে এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ সংগ্রহ গড়ে সে পথে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল তারা। তবে লক্ষ্য তাড়ায় জয়ের কোনো চেষ্টাই দেখা যায়নি জিম্বাবুয়ের মধ্যে। এতে ৭২ রানের জয়ে শেষ চারের লড়াইয়ে টিকে রইল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ উইকেটে ২৫৬ রান তোলে ভারত। জবাবে জিম্বাবুয়ের ইনিংস থামে ৬ উইকেটে ১৮৪ রানে।
ভারতের জয়ে সুপার এইটের এক নম্বর গ্রুপ থেকে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার। শেষ চারে এই গ্রুপের দ্বিতীয় দল কে হবে তা নির্ভর করবে আগামী রোববার ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচের ফলের ওপর। সেই ম্যাচের জয়ী দল সরাসরি চলে যাবে সেমি-ফাইনালে। তবে কোনো কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হলে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকায় শেষ চার নিশ্চিত হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ক্যারিবিয়ানদের নেট রানরেট ১.৭৯১। অন্যদিকে স্বাগতিক ভারতের নেট রানরেট -০.১০০।
এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে আড়াইশ রানের বেশি হজম করল জিম্বাবুয়ে। তাদের বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচে ৬ উইকেটে ২৫৪ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যা ছিল এবারের টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ এবং টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এবার এই দুই মাইলফলকই নিজেদের করে নিল ভারত।
একাদশে ফিরেই ব্যাট হাতে ঝড়ের শুরুটা করে দেন সাঞ্জু স্যামসন (২৪)। ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকা অভিশেক শর্মাকে নিয়ে এই উইকেটকিপার ব্যাটার গড়েন ২৩ বলে ৪৮ রানের জুটি। তার বিদায়ের পর ঝড় তোলেন অভিশেক ও ঈশান কিশান। পাওয়ারপ্লে শেষে দলের খাতায় যোগ হয় ১ উইকেটে ৮০ রান।
২৬ বলে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ফিফটি তুলে নেন অভিষেক। ২৪ বলে ৩৮ রান করা ঈশানের বিদায়ে ভাঙে দ্বিতীয় উইকেটের ৭২ রানের জুটি। অভিষেক ফেরেন ৩০ বলে ৫৫ রান করে। ১৩ বলে ৩৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে আউট হন সূর্যকুমার যাদব।
শেষ ৫ ওভারে তাণ্ডব চালিয়ে ৮০ যোগ করে ভারতকে এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এনে দেন হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মা। ২৩ বলে ৫০ রানের অপরাজিত ইনিংসে ম্যাচসেরা হন পান্ডিয়া। ভার্মা অপরাজিত থাকেন ১৬ বলে ৪৪ রানে।
বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই ধীরগতি ব্যাট করতে থাকে জিম্বাবুয়ে। পাওয়ারপ্লেতে কেবল ৪৪ রান তোলেন দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও টাডিওয়ানাশে মারুমানি। দশম ওভারে ৭২ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ক্রিজে আসলে রানের গতি বাড়ে। রাজার (৩১) বিদায়ে ভাঙে ৪২ বলে ৭২ রানের জুটিটি।
ম্যাচে জিম্বাবুয়ের একমাত্র প্রাপ্তি হতে পারত বেনেটের সেঞ্চুরি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডানহাতি এই ওপেনার অপরাজিত থাকেন ৫৯ বলে ৯৭ রানে।















মন্তব্য করুন: