রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে সেমিতে ভারত

রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে সেমিতে ভারত

জিতলেই সেমি-ফাইনাল, এমন সমীকরণ নিয়ে মাঠে নেমেছিল দুই দল। সে লক্ষ্যে রভম্যান পাওয়েল জেসন হোল্ডারের শেষের ঝড়ে বড় সংগ্রহ গড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে এরপর বাজে বোলিং ফিল্ডিংয়ের খেসারত দিতে হয়েছে তাদের। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে উইকেটের জয়ে শেষ চারে উঠেছে ভারত।

রোববার কলকাতায় সুপার এইটের শেষ ম্যাচে উইকেটে ১৯৫ রান তোলে ক্যারিবিয়ানরা। জবাবে বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছায় সূর্যকুমার যাদবের দল।

৫০ বলে ১২ চার ও ৪ ছক্কায় ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংসে ম্যাচসেরা হন ওপেনার সাঞ্জু স্যামসন।

এই জয়ে এক নম্বর গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ চারে পা রাখল ভারত। আগামী বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজকরা।

এর আগে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড ছিল ১৭৩। মিরপুরে ২০১৪ সালের আসরের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭৬ রান করেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ উদ্বোধনী জুটি থেকে ৬৮ রান পেলেও রানের গতি ছিল কম। ৩৩ বলে ৩২ রান করা অধিনায়ক শাই হোপকে বোল্ড করে নবম ওভারে এই জুটি ভাঙেন বরুণ চক্রবর্তী। এরপর ক্রিজে এসেই ঝড় তোলেন শিমরন হেটমায়ার। পরপর দুই ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ১৯ ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড গড়েন তিনি।

কিন্তু দ্বাদশ ওভারে জোড়া আঘাতে ক্যারিবিয়ানদের রানের লাগাম টেনে ধরেন যশপ্রীত বুমরাহ। তৃতীয় বলে হেটমায়ারকে (২৭) কট বিহাইন্ড করিয়ে ভাঙেন ১৬ বলে ৩৪ রানের জুটিটি। এক বল পরে ডানহাতি এই পেসার তুলে নেন আরেক ওপেনার রোস্টন চেইসকে (৪০)।

ঝড় তোলার আভাস দিলেও ১৪ রান করে ফেরেন শারফেইন রাদারফোর্ড। এরপর পঞ্চম উইকেটে পাওয়েল (৩৪*) ও হোল্ডারের (৩৭*) ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দুইশর কাছাকাছি যেতে পারে ক্যারিবিয়ানরা। শেষ ৫ ওভারে এই দুই ব্যাটার যোগ করেন ৭০ রান। আর তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটি থেকে আসে ৩৫ বলে ৭৬ রান।

লক্ষ্য তাড়ায় আগ্রাসী শুরু পাওয়া ভারতের উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ২৯ রান। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে টুর্নামেন্টে ধুঁকতে থাকা অভিষেক শর্মাকে (১০) ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন আকিল হোসেইন। দ্রুত ফেরেন ঈশান কিশানও (১০)। ৪১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর সূর্যকুমারকে নিয়ে অর্ধশত রানের জুটি গড়ে চাপ সামাল দেন স্যামসন। দশম ওভারে জীবন পেলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন সূর্যকুমার। পরের ওভারে ১৬ বলে ১৮ রান করে ভারত অধিনায়ক ফিরলে ভাঙে ৫৮ রানের জুটিটি।

এরপর স্যামসন ও তিলক ভার্মার ঝড়ে সহজ জয়ের পথে এগুতে থাকে ভারত। তবে হেটমায়ারের দুর্দান্ত ক্যাচে ভার্মা (২৭) ফিরলে ভাঙে ৪২ রানের এই জুটি। ফলে শেষ ৫ ওভারে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫০ রান, হাতে ছিল ৬ উইকেট। এরপরই লাইন-লেন্থহীন বোলিং এবং হার্দিক পান্ডিয়ার সহজ ক্যাচ মিসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় ক্যারিবিয়ানরা। শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে ছক্কা ও চার মেরে দলকে জেতান স্যামসন।

মন্তব্য করুন: