নিউ জিল্যান্ডের বাধা পার হওয়ার অপেক্ষায় দক্ষিণ আফ্রিকা
৩ মার্চ ২০২৬
টুর্নামেন্টের একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে এমন দলকে পেয়েছে, যাদেরকে কখনোই ক্রিকেটের বৈশ্বিক আসরের নকআউট পর্বে হারাতে পারেনি। ফলে প্রশ্নটা ঘুরে ফিরে আসছেই, এবার কি প্রোটিয়ারা পারবে?
বুধবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা। আইসিসির টুর্নামেন্টগুলোর নকআউট পর্বে এখন পর্যন্ত তিনবার কিউইদের মুখোমুখি হয়ে সবকটিতেই হেরেছে তারা। অবশ্য এবারই প্রথম টি-টুয়েন্টির কোনো আসরের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দু’দল।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম নকআউট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার দেখা হয় ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে। মিরপুরে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে কিউইদের দেওয়া ২২২ রান তাড়া করতে ব্যর্থ হয় প্রোটিয়ারা। গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলা, জ্যাক ক্যালিস, এবি ডি ভিলিয়ার্সদের নিয়ে গড়া ব্যাটিং লাইন-আপ নিয়ে তারা ম্যাচ হারে ৪৯ রানে।
পরের বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে আবার দেখা হয় এই দুই দলের। অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে গ্র্যান্ট ইলিয়টের নৈপুণ্যে ফাইনালে ওঠে নিউ জিল্যান্ড। ডেইল স্টেইনের করা শেষ ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে ৪ উইকেটে জেতান ইলিয়ট। ম্যাচ শেষে মরনে মরকেল-ডি ভিলিয়ার্সদের চোখের পানি এখনও ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে স্মৃতি হয়ে আছে।
নকআউট পর্বে নিউ জিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা সবশেষ মুখোমুখি হয় গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। লাহোরে অনুষ্ঠিত রানবন্যার ম্যাচে দাপুটে জয়ই পায় কিউইরা। আগে ব্যাট করে রাচিন রবীন্দ্র ও কেইন উইলিয়ামসনের সেঞ্চুরিতে ৩৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। জবাবে ডেভিড মিলারের সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটে ৩১২ রান করতে পারে প্রোটিয়ারা।
তবে এবারের ফরম্যাট ভিন্ন হওয়ায় জয়ের আশা করতেই পারে দক্ষিণ আফ্রিকা। এইডেন মারক্রামের নেতৃত্বে গ্রুপপর্ব ও সুপার এইটে দাপুটে পারফরম্যান্সে এবারের আসরের শেষ চারে পা রাখে তারা। গ্রুপপর্বেও নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়েছিল দলটি। এছাড়া সহ-আয়োজক ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারানো একমাত্র দলও তারাই।
অন্যদিকে গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় স্থানে থেকে সুপার এইটে আসা নিউ জিল্যান্ড এই পর্বে জিতেছে একটি ম্যাচে। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয় এবং আরেকটিতে হেরে যায়। তবে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকায় পাকিস্তানকে টপকে শেষ চার নিশ্চিত হয় মিচেল স্যান্টনারের দলের।
আইসিসির সাদা বলের বৈশ্বিক আসরগুলোর নকআউট পর্বে নিয়মিতই খেই হারিয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের বিপক্ষে গত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে শিরোপা জয়ের খুব ভালো অবস্থানেই ছিল তারা। কিন্তু লক্ষ্য তাড়ায় শেষ ৫ ওভারে ৬ উইকেট হাতে নিয়েও ৩০ রান নিতে পারেনি তারা। এবার নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে সেই আক্ষেপ নিশ্চই ঘোঁচাতে চাইবে মারক্রাম-মিলাররা।















মন্তব্য করুন: