অ্যালেনের তাণ্ডবে দ. আফ্রিকাকে গুঁড়িয়ে ফাইনালে নিউ জিল্যান্ড

অ্যালেনের তাণ্ডবে দ. আফ্রিকাকে গুঁড়িয়ে ফাইনালে নিউ জিল্যান্ড

শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে মার্কো ইয়েনসেনের শেষের ঝড়ে ভালো সংগ্রহ পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু ফিন অ্যালেনের রেকর্ড গড়া শতকে সেটিই মামুলি হয়ে ওঠে নিউ জিল্যান্ডের জন্য। টুর্নামেন্টে সেমি-ফাইনালের আগে অপরাজিত থাকা একমাত্র দলটিকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে মিচেল স্যান্টনারের দল।

বুধবার কলকাতায় প্রথম সেমি-ফাইনালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ১৬৯ রান তোলে প্রোটিয়ারা। জবাবে ৪৯ বল হাতে রেখে লক্ষ্য পৌঁছায় কিউইরা।

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্রুততম ৩৩ বলে সেঞ্চুরি হাঁকান অ্যালেন। ভেঙে দেন ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রিস গেইলের করা ৪৭ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড। ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরিতে ১০০ রানে অপরাজিত থাকা অ্যালেন তার ম্যাচসেরার ইনিংসটি সাজান ১০ চার ও ৮ ছক্কায়।

গত আসরে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেওয়া নিউ জিল্যান্ড দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠল। এর আগে ২০২১ সালে প্রথম ফাইনালে উঠেছিল তারা। অন্যদিকে গ্রুপপর্ব ও সুপার এইটে দাপুটে পারফরম্যান্সে সব ম্যাচ জেতা এইডেন মারক্রামের দল বিদায় হলো আরেকটি হতাশায়। গ্রুপপর্বে এই দুই দলের প্রথম দেখায় ৭ উইকেটে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

আহমেদাবাদের শিরোপা লড়াইয়ে আগামী রোববার ইংল্যান্ড অথবা স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে নিউ জিল্যান্ড।

ইডেন গার্ডেন্সে ব্যাটিংয়ে নেমে কোল ম্যাককনকির পেস তোপে দ্বিতীয় ওভারে পরপর দুই বলে কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকেলটনকে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। পাওয়ারপ্লেতে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে তারা তুলতে পারে ৪৮ রান।

চতুর্থ ওভারে জীবন পেলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন মারক্রাম। প্রোটিয়া অধিনায়কের ২০ বলে ১৮ রানের ইনিংসের ইতি টানেন রাচিন রবীন্দ্র। দশম ও একাদশ ওভারে ডেভিড মিলার (৬) ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে হারিয়ে দারুণ চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।

৭৭ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ট্রিস্ট্যান স্টাবস ও ইয়েনসেনের ব্যাটে লড়াই করার মতো ভিত পায় গত আসরের রানার্স-আপ দলটি। স্টাবসকে (২৯) বোল্ড করে ৭৩ রানের এই জুটি ভাঙনে লকি ফার্গুসন। শেষ পর্যন্ত ইয়েনসেনের ব্যাটে লড়াই করার মতো ভালো সংগ্রহ পায় প্রোটিয়ারা। ২৭ বলে ফিফটি হাঁকানো বাঁহাতি এই ব্যাটার অপরাজিত থাকেন ৩০ বলে ৫৫ রানে।

দুটি করে উইকেট নেন ম্যাট হেনরি, ম্যাককনকি ও রবীন্দ্র।

লক্ষ্য তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারে ডি ককের কাছে জীবন পান টিম সাইফার্ট। এরপর অ্যালেনের সঙ্গে চার-ছক্কার ফুলঝুড়িতে পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে আসেন এই ওপেনার। প্রথম ৬ ওভারে তারা তোলেন ৮৪ রান। ২৮ বলে ফিফটি হাঁকান সাইফার্ট। অপর প্রান্তে অ্যালেন পঞ্চাশের দেখা পান ১৯ বলে, যা চলতি আসরে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

দশম ওভারের প্রথম বলে সাইফার্টকে (৫৮) বোল্ড করে ১১৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন কাগিসো রাবাদা। তবে অপরপ্রান্তে তাণ্ডব চালিয়ে ১২ ওভার ৫ বলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন অ্যালেন। ইয়েনসেনের করা ওভারে চার মেরে দলকে জিতিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।

মন্তব্য করুন: