টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের পর নিজের ভুল স্বীকার ইংল্যান্ড অধিনায়কের
৬ মার্চ ২০২৬
ম্যাচের তখন খেলা চলছিল তৃতীয় ওভারের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ভারতকে সেমি-ফাইনালে তোলা সাঞ্জু স্যামসন ব্যাট করছিলেন ১৫ রানে। এমন সময় এই ওপেনারের খুব সহজ ক্যাচ তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন হ্যারি ব্রুক। আর তাই টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর নিজেকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ভারতের কাছে ৭ রানে হারে ইংল্যান্ড। ভারতের দেওয়া ২৫৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জ্যাকব বেথেলের সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ২৪৬ রান পর্যন্ত যেতে পারে ইংলিশরা।
ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রানবন্যার ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয় দুই দলের ফিল্ডিং। জোফরা আর্চারের করা সেই ওভারের দ্বিতীয় বলে মিড-অনে স্যামসনকে জীবন দেন ব্রুক।
জীবন পেয়ে পরের ৩৫ বলে আরও ৭৪ রান যোগ করেন স্যামসন। ৪২ বলে ৮৯ রানের ম্যাচসেরার ইনিংস খেলে ভারতকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন তিনি। এর আগে কোয়ার্টার-ফাইনালে রূপ নেওয়া সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে জেতান এই ওপেনার।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ব্রুক বলেন, “আমি স্বীকার করছি, স্যামসনের ক্যাচ ছেড়ে বড় ভুল করেছি। ক্যাচ ম্যাচ জেতায়, তাই না? দুর্ভাগ্যবশত বলটা আমার হাতে থাকেনি... অবশ্যই এটা আমার মাথায় কাজ করছিল। আমি বারবার স্কোরবোর্ডের দিকে তাকাচ্ছিলাম এবং সে রানের পাহাড় গড়ছিল। মনে মনে ভাবছিলাম, ‘আজ আমাকে ৮৯ রান করতে হবে।’”
তবে ব্রুক করতে পারেন কেবল ৭ রান। ২৪ মিটার দৌড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়ে তাকে ফেরান অক্ষর প্যাটেল। পরে বেথেল ও উইল জ্যাকসের জুটি যখন ভারতের জন্য হুমকি হয়ে উঠছিল, তখন সীমানার কাছে আরেকবার অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে জ্যাকসকে ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
সেমি-ফাইনালের আগ পর্যন্ত চলতি আসরে ভারতের ফিল্ডিং ভালো ছিল না। সূর্যকুমার যাদবের দল ক্যাচ ছাড়ে ১৩টি।
ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইংল্যান্ড কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম জানান, ফিল্ডিংই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
ব্রুকের ক্যাচ মিসের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, ওদের নেওয়া দুটি ক্যাচের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছি আমি। এই মাঠে ফিল্ডিং করা সহজ নয়, বিশেষ করে যখন দর্শকরা জোরে চিৎকার করছিল এবং বল সব দিকেই উড়ে যাচ্ছিল... অক্ষর প্যাটেল সেই ক্যাচগুলো ধরতে পেরেছে, এটাই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।”
“বিশেষ করে সীমানা দড়ির ওপরে যেটি, যদি ওটা ওপর দিয়ে যেত... পার্থক্য ছিল সাত রানের, ওখানেই তো ছয় রান (ছক্কা হলে)। টুর্নামেন্ট জুড়ে ওদের ফিল্ডিং ভালো ছিল না। তাই আজ রাতে ওদের ভালো করাটা আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে হতাশাজনক।”















মন্তব্য করুন: