নিউ জিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে রেকর্ড তৃতীয় শিরোপা ভারতের

নিউ জিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে রেকর্ড তৃতীয় শিরোপা ভারতের

টুর্নামেন্টের ফাইনালের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে শিরোপা জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে ছিল সূর্যকুমার যাদবের দল। লক্ষ্য তাড়ায় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। ৯৬ রানের রেকর্ড জয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত।

রোববার আহমেদাবাদের ফাইনালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ২৫৫ রান তোলে স্বাগতিকরা। জবাবে এক ওভার আগে ১৫৯ রানে থামে নিউ জিল্যান্ডের ইনিংস।

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ে সর্বোচ্চ রানে জয়ের আগের রেকর্ডটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০১২ আসরে শ্রীলঙ্কাকে ৩৬ রানে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জিতেছিল ক্যারিবিয়ানরা।

অন্যদিকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে আগের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটিও ছিল ভারতের। ২০২৪ সালের আসরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শিরোপা লড়াইয়ে ৭ উইকেটে ১৭৬ রান করে ৭ রানের জয় পেয়েছিল তারা। এছাড়া টুর্নামেন্টের ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে টানা দুই আসরে শিরোপা জেতার কীর্তিও গড়েছে ভারত।

স্বাগতিকদের রান পাহাড়ে তুলতে এদিনও বড় ভূমিকা রাখেন সাঞ্জু স্যামসন। টানা তৃতীয় ম্যাচে আশি ছোঁয়া ইনিংস খেলা এই ব্যাটার করেন ৪৬ বলে ৮৯ রান।

শিরোপা অনেকটা নির্ধারণ হয়ে যায় দুই দলের পাওয়ারপ্লেতেই। স্যামসন-অভিষেক শর্মার তাণ্ডবে প্রথম ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৯২ রান তোলে ভারত। অন্যদিকে ৫২ রান তুলতে ৩ উইকেট হারায় নিউ জিল্যান্ড।

রানবন্যার ফাইনালে ম্যাচসেরা হয়েছেন যশপ্রীত বুমরাহটুর্নামেন্টজুড়ে ব্যর্থ অভিষেক এদিন ঝড় তুলে ফিফটি হাঁকান রেকর্ড ১৮ বলে, যা যে কোনো টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের দ্রুততম। ২১ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৫২ রান করা বাঁহাতি এই ব্যাটারকে ফিরিয়ে ৯৮ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন রাচিন রবীন্দ্র।

এরপর স্যামসনের সঙ্গে কিউইদের ওপর তাণ্ডব চালান ঈশান কিশান। তাদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ১৫ ওভারেই দুইশ রান পূর্ণ হয় দলের। তবে ১৬তম ওভারেই এই গতি থামিয়ে দেন জিমি নিশাম। ওভারের প্রথম বলে স্যামসনকে ফিরিয়ে ডানহাতি এই পেসার ভাঙেন ৪৮ বলে ১০৫ রানের জুটি। ওভারের শেষ দুই বলে তুলে নেন ঈশান (৫৪) ও সূর্যকুমারকে (০)।

নিশামের করা ইনিংসের শেষ ওভারে শিভম দুবে ২৪ রান নিলে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে আড়াইশ রান পার হয় ভারতের। দুবে অপরাজিত থাকেন ৮ বলে ২৬ রানে।

লক্ষ্য তাড়ায় আগ্রাসী শুরু পেলেও তা ধরে রাখতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। তৃতীয় ওভারে আগের ম্যাচে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম শতক হাঁকানো ফিন অ্যালেনকে (৯) তুলে নিয়ে ৩১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন অক্ষর প্যাটেল। পরের ওভারের প্রথম বলে রবীন্দ্রকে (১) ফেরান যশপ্রীত বুমরাহ।

পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগে গ্লেন ফিলিপসকে (৫) তুলে নেন প্যাটেল। এক প্রান্ত আগলে রেখে ২৩ বলে ফিফটি তুলে নেন টিম সাইফার্ট। তবে এরপর টিকতে পারেননি তিনি। মার্ক চ্যাপম্যানের (৩) বিদায়ের দুই বল পর এই ওপেনার ফেরেন ৫২ রান করে।

৮ ওভারে ৭২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়া কিউইদের হয়ে কিছুটা চেষ্টা চালান ড্যারেল মিচেল ও মিচেল স্যান্টনার। মিচেলের বিদায়ে (১৭) ইনিংস সর্বোচ্চ এই জুটি থামে ৪২ রানে। স্যান্টনার ফেরেন ৪৩ রান করে।

১৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন বুমরাহ। প্যাটেলের শিকার তিনটি।

মন্তব্য করুন: