টেন্ডুলকারের নির্দেশনায় খাদের কিনারা থেকে স্যামসনের বিশ্বজয়

টেন্ডুলকারের নির্দেশনায় খাদের কিনারা থেকে স্যামসনের বিশ্বজয়

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুর আগে ব্যাট হাতে সময়টা ভালো যাচ্ছিল না সাঞ্জু স্যামসনের। টানা ব্যর্থতায় হারিয়েছিলেন একাদশে জায়গাও। তবে এই উইকেটকিপার-ব্যাটারের রেকর্ডময় পারফরম্যান্সে শিরোপা ধরে রেখেছে ভারত। টুর্নামেন্টের সেরা হয়ে নিজের ক্যারিয়ার পুনরুজ্জীবিত হওয়াতে কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের বড় ভূমিকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

রোববার আহমেদাবাদে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চে স্যামসনের ঝড়ো ৮৯ রানের সুবাদে ২৫৬ রানের লক্ষ্য দিয়ে ৯৬ রানে ম্যাচ জেতে ভারত।

ইনিংসে ৮০ দশমিক ২৫ গড় এবং প্রায় ২০০ স্ট্রাইক-রেটে ৩২১ রান করে দলকে রেকর্ড তৃতীয় শিরোপা জিতিয়ে আসরের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন স্যামসন। এটি ভারতের হয়ে এক বিশ্বকাপে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। আগের রেকর্ডটি ছিল বিরাট কোহলির। ২০১৪ সালে ছয় ইনিংসে ৩১৯ রান করেছিলেন তিনি।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্যামসন জানান, বাজে সময় কাটিয়ে উঠতে গত কয়েক মাস ধরে তিনি নিয়মিত টেন্ডুলকারের সাথে যোগাযোগ করেছেন।

সত্যি বলতে, অনেক সিনিয়র খেলোয়াড় আমাকে পথ দেখিয়েছেন। তবে গত কয়েক মাস আমি শচীন স্যারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। যখন আমি অস্ট্রেলিয়ায় (অক্টোবরে টি-টুয়েন্টি সিরিজে) একাদশের বাইরে ছিলাম, তখন ভাবছিলাম এই পরিস্থিতিতে কেমন মানসিকতা প্রয়োজন। এরপর স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং দীর্ঘক্ষণ আলাপ করি।

এমনকি গত শনিবার (ফাইনালের আগের রাতে) তিনি আমাকে ফোন করে আমি কেমন বোধ করছি তা জানতে চান। তার মতো একজনের কাছ থেকে খেলার প্রস্তুতি এবং গেম সেন্স সম্পর্কে দিকনির্দেশনা পাওয়া আমার জন্য বড় আশীর্বাদ।

শিরোপা জয়ের পর কোচ গম্ভীরের সঙ্গে স্যামসন২০২৪ সালটা ব্যাট হাতে দুর্দান্ত কাটানো স্যামসন ২০২৫ সালে এসে যেন খেই হারিয়ে ফেলেন। ১১ ইনিংসে ২০ দশমিক ১৮ গড় ১২৬ দশমিক ৮৫ স্ট্রাইক রেটে রান করেন ২২২, ফিফটি হাঁকাতে পারেন একটি। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজেও ধুঁকছিলেন তিনি। ওপেনিংয়ে নেমে পাঁচ ইনিংসে করেন মাত্র ৪৬ রান।

এমন শোচনীয় পারফরম্যান্সের পর বিশ্বকাপের শুরুতে ঈশান কিশানের কাছে একাদশে জায়গা হারান স্যামসন। সে সময়টায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানান তিনি।

নিউ জিল্যান্ড সিরিজের ঠিক পরে আমি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল আমার সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে। আমি ভাবতাম, ‘ঠিক আছে, এখন মার আর কী করার আছে?’ কিন্তু সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। আমি হঠাৎ করেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শুরু) সুযোগ পাই এবং দেশের জন্য নিজের সেরাটা দেই।

অভিষেক শর্মার অনুপস্থিতিতে গ্রুপপর্বে কেবল নামিবিয়ার বিপক্ষে খেলার সুযোগ পান স্যামসন। এরপর সুপার এইটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টিকে থাকার লড়াইয়ে আবার ওপেনিংয়ে ফিরে নিজেকে মেলে ধরেন তিনি। এরপর আর পেছনে তাকাননি এই ব্যাটার।বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচে আশির বেশি রান করেন স্যামসন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অলিখিত কোয়ার্টার-ফাইনালে ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংসের পর সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৯ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভারতকে ফাইনালে তোলেন তিনি। আর শিরোপা লড়াইয়ে তার ইনিংসটি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের যেকোনো ফাইনালে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। ভেঙে দেন ২০১৬ আসরে মারলন স্যামুয়েলস এবং ২০২১ আসরে কেইন উইলিয়ামসনের করা ৮৫ রানের রেকর্ড।

এক আসরে সবচেয়ে বেশি ২৪ ছক্কা হাঁকানোর নতুন রেকর্ড গড়েছেন স্যামসন। এই আসরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০টি ছক্কা হাঁকান নিউ জিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন। এবারের আসরের আগে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ১৭টি ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিকোলাস পুরানের।

এক আসরের সেমি-ফাইনাল ফাইনাল মিলিয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও নতুন করে লেখেছেন স্যামসন। এই দুই ম্যাচে তিনি করেন ১৭৮ রান। ২০১৪ সালের আসরে এই দুই ম্যাচে ১৪৯ রান করেছিলেন কোহলি। এছাড়া শহিদ আফ্রিদি কোহলির পর তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে একই আসরে সেমি-ফাইনাল ফাইনালে ফিফটি করার কীর্তি গড়েছেন তিনি।

মন্তব্য করুন: