নাহিদের পেস তোপে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের
১১ মার্চ ২০২৬
আগুন ঝরানো বোলিংয়ে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে দিয়ে জয়ের ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন নাহিদ রানা। তানজিদ হাসান তামিমের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ১৬ ওভারেই সেই রান তাড়া করে ৮ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ।
বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রায় ২০ ওভার আগে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। জবাবে ২০৯ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছায় স্বাগতিকরা।
বল হাতে রেখে জয়ের দিক দিয়ে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বড় জয়। ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২২৯ বল হাতে রেখে জিতেছিল টাইগাররা।
পাকিস্তানের ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দিয়ে ৭ ওভারে ২৪ রানে ৫ উইকেটে নেন ম্যাচসেরা নাহিদ। ছয় ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট পেলেন এই ফাস্ট বোলার।
এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বনিম্ন ১৭৭ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু ২০১১ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে জিততে পারেনি স্বাগতিকরা। ১১৯ রানে অলআউট হয়ে হারে ৫৮ রানে।
এদিন ছোট লক্ষ্য তাড়ায় তৃতীয় ওভারে সাইফ হাসানের (৪) বিদায়ে ভাঙে ২৭ রানের উদ্বোধনী জুটি। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে পাকিস্তানের ওপর ঝড় তোলেন তানজিদ। প্রথম পাওয়ারপ্লেতে দলের খাতায় যোগ হয় মোট ৮১ রান। ৩২ বলে ক্যারিয়ারের দ্বাদশ ফিফটি পূর্ণ করেন তানজিদ।
জয় থেকে ৬ রান দূরে থাকতে শান্ত (২৭) সাজঘরের পথ দেখলে ভাঙে ৮২ রানের জুটি। ৪২ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় তানজিদ অপরাজিত থাকেন ৬৭ রানে।
চার অভিষিক্তকে নিয়ে মাঠে নামা পাকিস্তানকে দারুণ শুরু এনে দেন দুই অভিষিক্ত সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত। বিনা উইকেটে প্রথম পাওয়ারপ্লে কাটিয়ে দেওয়ার পথে ছিলেন এই দুই ওপেনার। কিন্তু দশম ওভারে প্রথমবারের মতো বোলিংয়ে এসে সেই চিত্র বদলে দেন নাহিদ। ওভারের শেষ বলে ফারহানকে (২৭) তুলে নিয়ে ভাঙেন ৪১ রানের জুটি। এরপর নিজের টানা ৪ ওভারে আরও চারটি শিকার ধরেন এই পেসার। ১৮তম ওভারে সালমান আলী আগাকে (৫) ফিরিয়ে পূর্ণ করেন ৫ উইকেট।
৬৯ রানে ৫ উইকেট হারানো পাকিস্তানের বিপদ আরও বাড়ান মেহেদী হাসান মিরাজ। বাংলাদেশ অধিনায়কের ঘূর্ণিতে একশর আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল তারা। কিন্তু ফাহিম আশরাফের ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৭ রানের সুবাদে তা আর হয়নি। শেষ উইকেটে আবরার আহমেদকে (০*) নিয়ে গড়েন ৩২ রানের জুটি। শেষ পর্যন্ত ৩০ ওভার ৪ বলে গুটিয়ে যায় অতিথিরা।
মিরাজ নেন ৩ উইকেট। একটি করে উইকেট পান তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান।
শুক্রবার একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।















মন্তব্য করুন: