লাইন-লেন্থ মেনে বোলিং করেই সফল নাহিদ
১১ মার্চ ২০২৬
নাহিদ রানার রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে পাকিস্তানকে উড়িয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। আগুন ঝরানো বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং-অর্ডার গুঁড়িয়ে দিয়ে জয়ের অর্ধেক কাজটা করে দেন এই ফাস্ট বোলার। ম্যাচ শেষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের রহস্য জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ১১৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৮ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ।
৭ ওভার ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন নাহিদ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এটি বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগার। এর আগে ২০১৯ বিশ্বকাপে ৭৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান।
মিরপুরের উইকেটে সাধারণত স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পেলেও এদিন সুবিধা পান পেসাররাই। তবে বিষয়টি মোটেও অবাক করেনি বলে জানান নাহিদ। তার মতে, উইকেট বুঝে বোলিং করাটাই সফলতার চাবিকাঠি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ২৩ বছর বয়সী এই পেসার বলেন, “প্রথমে ফিজ ভাই এবং তাসকিন ভাই বোলিং করতেছিল। তাই তাদের সঙ্গে কথা বলতেছিলাম মাঠের মধ্যে যে, ভাই উইকেটে কি হইতেছে না হইতেছে। তারা তখন বলল যে, উইকেটে হিট করলে কিংবা একটা জায়গাতে লাইন লেন্থ মেনটেইন করলে ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন খেলা। তাই আমি ওই জিনিসটা শুধু বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছি মাঠে।”
“আসলে আমার জন্য প্রত্যেকটা উইকেটই স্পেশাল। কারণ উইকেট ধরেন আজকে ভালো, কালকে খারাপ। এটা আমি কখনও এই চিন্তা করি না। আমি চিন্তা করি উইকেট যেমনি হোক উইকেটটা নিজে বুঝা উচিত এবং ওই উইকেট যেটা ডিমান্ড করে সে অনুযায়ী বোলিং করা উচিত।”
এদিন ইনিংসের দশম ওভারে প্রথমবারের মতো বোলিংয়ে এসে ৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে ধসের শুরুটা করেন নাহিদ। এরপর টানা ৪ ওভারে আরও ৪ উইকেট তুলে নেন চাপাইনবাবগঞ্জের এই পেসার। বোলিং করেন টানা ৭ ওভার, যা ওয়ানডেতে দেশের পেসারদের মধ্যে বিরলই বলা চলে।
এই প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, “এই জিনিসটা আসলে প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের একজন প্রফেশনাল খেলোয়াড় হিসেবে ফিট থাকা উচিত এবং যেকোনো সময় যেকোনো অবস্থায় যেকোনো সময়ে লং বোলিংও করতে হতে পারে। কিংবা সেটা হচ্ছে আপনার টিমের প্ল্যান অনুযায়ী। টিমের যদি মনে হয় যে না ৭ ওভার এক স্পেলে কিংবা যদি ১০ ওভার এক স্পেলে করা লাগে তো করতে হবে। কারণ টিম যেটা ডিমান্ড করে সে জিনিসটা আমি মনে করি একজন প্রফেশনাল খেলোয়াড় হিসেবে ওভাবে নিজেকে ফিট রাখা উচিত এবং নিজের ফিটনেসটাও ধরে রাখা উচিত।”
পাকিস্তান সিরিজের আগে ৫০ ওভারের বিসিএলে খেলেছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। উত্তরাঞ্চলের হয়ে টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচে ৭ উইকেট নেন নাহিদ। সেই টুর্নামেন্টটি পাকিস্তান সিরিজের জন্য অনুশীলনের দারুণ ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করেছে বলে জানান তিনি।
“আমাদের বিসিএল টুর্নামেন্টটা প্রিপারেশনের জন্য অনেক কাজে দিয়েছে। আমরা শুধু ওই জিনিসটাই মাঠে বাস্তবায়ন করছি। বিসিএলে যে জিনিসটা এর আগে এখানে অনেক ম্যাচ খেলেছি এবং ওই অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি যে, এই উইকেটে তো অনেক খেলা হয়েছে। তো ওই জিনিসটাই শুধু কাজে লাগাইছি যে, কেমনে কোন লাইন লেন্থে বোলিং করে এই উইকেটে সহায়তা পাওয়া যায়।”















মন্তব্য করুন: