বৃষ্টি বাধার পর বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে সিরিজে ফিরল পাকিস্তান

১৩ মার্চ ২০২৬

বৃষ্টি বাধার পর বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে সিরিজে ফিরল পাকিস্তান

বোলারদের নৈপুণ্যে উড়তে থাকা পাকিস্তানকে তিনশর আগেই থামিয়েছিল বাংলাদেশ। লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই তিন টপ-অর্ডারকে হারিয়ে দারুণ চাপে পড়েছিল তারা। এরপর প্রকৃতির বাধায় লম্বায় সময় খেলা বন্ধ থাকার পর ব্যাটিংয়ে নামলে ধসে পড়ে স্বাগতিকদের পুরো ব্যাটিং-অর্ডার। বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানের জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সমতায় ফিরেছে সফরকারীরা।

শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২৭৪ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। লক্ষ্য তাড়ায় সপ্তম ওভারের মাঝামাঝি বৈরি আবহওয়ার কারণে খেলা বন্ধ হয়। দুই ঘণ্টার বেশি সময় পর খেলা শুরু হলে ডার্ক-ওয়ার্থলুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩। সেই লক্ষ্য তাড়ায় ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

রান তাড়ায় শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ওয়াসিমের পেস তোপে প্রথম ৫ ওভারের মধ্যে ১৩ রানের ভেতর তানজিদ হাসান তামিম (১), সাইফ হাসান (১২) ও নাজমুল হোসেন শান্তর (০) উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে দলের চাপ সামাল দেওয়ার পথে এদিন ৯ ইনিংস পর ওয়ানডেতে দুই অঙ্কের দেখা পান লিটন দাস। বৃষ্টির বাধার পর খেলা শুরু হলে আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকেন তিনি। কিন্তু ৩৩ বলে ৪১ রান করে মাজ সাদাকাতের বলে এই উইকেটকিপার-ব্যাটার এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়লে ভাঙে ৫৮ রানের জুটি।

এরপর হারিস রউফের পেস ও সাদাকাতের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে ২৩ ওভার ৩ বলে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ১৯ রানে শেষ ৬ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

৩টি করে উইকেট নেন সাদাকাত ও রউফ। শাহিনের শিকার দুটি।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন সাহিবজাদা ফারহান ও সাদাকাত। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৩১ বলে ফিফটি তুলে নেন সাদাকাত। আগের ম্যাচে ১১৪ রানে গুটিয়ে যাওয়া দলটির এদিন একশ রান হয় ১৩তম ওভারেই। সেই ওভারের শেষ বলে ৭৫ রান করা সাদাকাতকে ফিরিয়ে ১০৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মিরাজ। এরপর রানের লাগাম টেনে ধরেন বোলাররা।

দ্রুত ফারহান (৩১) ও শামিল হুসেইন (৬) বিদায় নিলে চাপে পড়ে সফরকারীরা। সেখান থেকে সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের শতরানের জুটিতে বড় সংগ্রহের পথে এগুচ্ছিল পাকিস্তান। কিন্তু সালমানের ভুলের সুযোগ নিয়ে সেই জুটি ভাঙেন মিরাজ।

এই অফস্পিনারের করা ৩৯তম ওভারের চতুর্থ বলটি রিজওয়ান খেলেন সোজাসুজি। ডান দিকে গিয়ে পা দিয়ে তা আটকান মিরাজ। অপর প্রান্তে থাকা সালমান ছিলেন ক্রিজের বাইরে। বলটি তাদের দুজনের পায়ের কাছেই ছিল। কিন্তু সালমান ক্রিজে না প্রবেশ করে সেটি মিরাজের হাতে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এর আগেই বলটি ধরে স্টাম্পে মারেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৬২ বলে ৬৪ রান করে রানআউট হন সালমান। ভাঙে ১০৯ রানের জুটি।

এক বল পর মিরাজকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে রিশাদ হোসেনের হাতে ধরা পড়েন রিজওয়ান (৪৪)। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় ৪৭ ওভার ৩ বলে।

রিশাদ নেন ৩ উইকেট। ১০ ওভারে ৩৪ রানে ২ উইকেট নেন মিরাজ।

মন্তব্য করুন: