রোমাঞ্চকর ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

১৫ মার্চ ২০২৬

রোমাঞ্চকর ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

তাসকিন আহমেদ-নাহিদ রানার দাপটে রান তাড়ার শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে দারুণ চাপে পড়েছিল পাকিস্তান। তবে সালমান আলী আগার সেঞ্চুরির পর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচ শেষ ওভারে ১৪ রানের সমীকরণে নিয়ে আসেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। কিন্তু রিশাদ হোসেনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে তা করতে পারেননি সফরকারী অধিনায়ক। রোমাঞ্চকর জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

রোববার মিরপুরে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি ১১ রানে জিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।

শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ৫ উইকেটে ২৯০ রানের সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা। জবাবে শেষ বলে ২৭৯ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।

২০১৫ সালে দুই দলের সবশেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। সেটি ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম কোনো সিরিজ জয়।

পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ফরম্যাটে খেলা সবশেষ সবকটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজই জিতল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে দেশটির মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের পর গত বছর ঘরের মাঠে টি-টুয়েন্টি সিরিজ জিতেছিল টাইগাররা।

৯৮ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকান তানজিদআন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে ১০৭ রান করা তানজিদ জেতেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। নাহিদ রানার সঙ্গে বাঁহাতি এই ওপেনার যৌথভাবে জিতেছেন সিরিজসেরার পুরস্কারও।

লক্ষ্য তাড়ায় পেসারদের তোপে প্রথম তিন ওভারে ৩ উইকেট হারানোর পর ৮২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। দলকে টেনে তুলতে অভিষিক্ত সাদ মাসুদকে নিয়ে জুটি বাধেন সালমান। মাসুদকে (৩৮) বোল্ড করে ৭৯ রানের এই জুটি ভেঙে স্বাগতিকদের স্বস্তি দেন মুস্তাফিজ। এরপর সপ্তম উইকেটে সালমান-ফাহিম আশরাফের ৪৮ রানের জুটি ভাঙেন তাসকিন।

অষ্টম উইকেটে শাহিনকে নিয়ে অর্ধশত রানের জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে আনেন সালমান। ৮৯ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ৪৮তম ওভারে ১০৬ রান করা এই ডানহাতি এই ব্যাটারকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে ম্যাচ আনেন তাসকিন।

শেষ দুই ওভারে পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার ছিল ২৮ রান, হাতে ছিল ২ উইকেট। মুস্তাফিজুর রহমানের করা ৪৯তম ওভারে দুই ছক্কায় ১৪ রান নিয়ে পাকিস্তানের আশা বাঁচিয়ে রাখেন শাহিন। কিন্তু এক উইকেট নিয়ে রিশাদের করা শেষ ওভারে কেবল ২ রান নিতে পারেন তিনি।

৪ উইকেট নেন তাসকিন, মুস্তাফিজ নেন ৩টি। নাহিদের শিকার ২ উইকেট।

ব্যাটিংয়ে নেমে এদিন বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন তানজিদ ও সাইফ হাসান। আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকা তানজিদ ফিফটি তুলে নেন ৪৭ বলে। কিছুটা ধুঁকতে থাকা সাইফকে (৩৬) বোল্ড করে ১০৫ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন শাহিন।

এরপরই কমতে শুরু করে রানের গতি। নাজমুল হোসেন শান্ত ক্রিজে এসে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের আভাস দিলেও বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি। ২৭ রান করা এই ব্যাটারের বিদায়ে ভাঙে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের জুটি।

ছক্কা হাঁকিয়ে ৯৮ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তানজিদ। আবরার আহমেদের বলে শাহিনের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ১০৭ বলের ইনিংসটি সাজান ৬ চার ও ৭ ছক্কায়।

চতুর্থ উইকেটে তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে ৬৮ রানের জুটি গড়লেও স্বাচ্ছন্দে দেখা যায়নি লিটন দাসকে। ৪৭তম ওভারে ৪১ রান করা এই ব্যাটারকে ফেরানোর পরের বলে রিশাদকে বোল্ড করেন হারিস রউফ। শেষ পর্যন্ত ৪৪ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন হৃদয়।

মন্তব্য করুন: