কোটি ডলারের ক্ষতি হলেও পিচ তৈরিতে হস্তক্ষেপ করবে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া
২৩ মার্চ ২০২৬
অ্যাশেজ সিরিজের দুটি টেস্ট মাত্র দুই দিনে শেষ হয়ে যাওয়ায় এক কোটিরও বেশি ডলারের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেও পিচ তৈরিতে কেন্দ্রীয়ভাবে হস্তক্ষেপ করবে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)।
গত নভেম্বরে পার্থ স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্ট এবং ডিসেম্বরে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) চতুর্থ টেস্টের ফল দ্বিতীয় দিনেই হয়ে যায়। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট মহলে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।
আইসিসির ম্যাচ রেফারির কাছ থেকে পার্থের পিচ সর্বোচ্চ রেটিং পেলেও মেলবোর্নের পিচটিকে ‘অসন্তোষজনক’ রেটিং দেওয়া হয়। এমসিজিতে পেসারদের জন্য বাড়তি সুবিধা থাকায় দুই দিনে ৩৬ উইকেটের পতন হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিটি ভেন্যুর গ্রাউন্ড স্টাফরা স্বাধীনভাবে পিচ তৈরি করেন। কিন্তু মেলবোর্ন টেস্টের প্রথম দিন শেষে সিএ-এর প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ জানিয়েছিলেন, পিচ তৈরিতে বোর্ডের আরও বেশি জড়িত হওয়া উচিত। কারণ দুই দিনের ম্যাচ ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর।
তবে সোমবার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অপারেশনস প্রধান পিটার রোচ স্পষ্ট করে জানান, বোর্ড পিচ প্রস্তুতির বিষয়ে আগের মতোই দূরত্ব বজায় রাখবে। এর পেছনে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিশাল ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও জলবায়ুকে কারণ হিসেবে দেখান।
“ইংল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোতে কেন্দ্রীয় কিউরেটর দিয়ে সব মাঠ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কারণ সেখানে উইকেট, মাটি ও জলবায়ু প্রায় একই রকম। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিটি ভেন্যুর বৈশিষ্ট্য আলাদা। সেরা কিউরেটরকেও যদি অন্য ভেন্যুর দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে জলবায়ু ও মাটির আচরণ বুঝতে তার অনেক সময় লেগে যাবে।”
পাঁচ দিনের পার্থ ও মেলবোর্ন টেস্ট নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে শেষ হয়ে যাওয়ায় টিকিট রিফান্ড এবং অন্যান্য খরচ বাবদ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রায় দেড় কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার (১ কোটি ৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার) লোকসান হওয়ার কথা জানিয়েছিল স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো।
আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো প্রতিবেশি নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে চার ম্যাচের টেস্ট খেলতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। পার্থে সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে ৯ ডিসেম্বর। সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে অ্যাডিলেইড, মেলবোর্ন ও সিডনিতে।















মন্তব্য করুন: