ভেঙে দেওয়া হলো বিসিবির পর্ষদ, তামিমকে প্রধান করে অ্যাডহক কমিটি
৭ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সবশেষ নির্বাচনে অনিয়ম হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে দাবি তুলে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির নির্বাচন নিয়ে এনএসসির গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তুলে ধরে বিষয়টি জানান এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান।
প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ২০১৮ সালের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নীতিমালার ২১ ধারা অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ধারা অনুযায়ী, এনএসসি তাদের অধীনস্থ কোনো ক্রীড়া সংস্থায় অনিয়ম খুঁজে পেলে যেকোনো ব্যবস্থা নিতে পারে।
তামিমের নেতৃত্বে এই অ্যাডহক কমিটি তিন মাস দায়িত্ব পালন করবেন। এই সময়ের মধ্যে তারা বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন দেবেন। তবে অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা নির্বাচন করতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের কোনো পরিষ্কার উত্তর দেননি আমিনুল এহসান।
গত অক্টোবরে নির্বাচিত আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার কথা ইতোমধ্যে আইসিসিকে ইমেইলে জানানো হয়েছে বলেও জানান এনএসসির পরিচালক।
বিসিবির গত নির্বাচনে অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের অনুমোদনে গত মাসে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিক সেই কমিটি গত রোববার তাদের প্রতিবেদন জমা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির পাওয়া বিসিবির নির্বাচনে অনিয়মের ব্যাপারগুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিম মাহমুদ সজিব ভুঁইয়ার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপের বেশ কিছু নজির উঠে এসেছে সেই কমিটির পর্দবেক্ষণে। এছাড়াও সেই নির্বাচন জিতে বিসিবি সভাপতি হওয়া বুলবুল তার দায়িত্বের বাইরে প্রভাব খাটানো ও অনিয়মের অনেক ঘটনার উল্লেখ করা হয় কমিটির প্রতিবেদনে।
১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি: তামিম ইকবাল (প্রধান) রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আতহার আলী খান, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা।
কমিটিতে সাবেক ক্রিকেটারের পাশাপাশি বিএনপি নেতাদের ছেলে
জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার ও অধিনায়ক তামিম গত বছর জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই বিএনপির সঙ্গে তামিমের সংশ্লিষ্টতা সামনে আসতে শুরু করে। ২০২৫ সালের মে মাসে চট্টগ্রামে বিএনপি আয়োজিত একটি তারুণ্যের সমাবেশে যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি।
একই বছর অক্টোবরে বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে তামিমের নির্বাচন করার গুঞ্জন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তামিমসহ পুরো প্যানেল নির্বাচন বয়কট করে।
গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর সাবেক তারকা ফুটবলার ও ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুলের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যায় তামিমকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমেদের ছেলে ইব্রাহিম আহমেদ ও তামিমকে একসঙ্গে ছবিতে দেখা গেছে।
৩৭ বছর বয়সী তামিমের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটিতে আছেন আরও দুই সাবেক ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদীন ও আতহার আলী খান।
সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এর আগে প্রধান নির্বাচক ছিলেন। সাবেক ওপেনার আতাহার আলী খান বর্তমানে ধারাভাষ্যকার হিসেবে আছেন।
কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে চারজন সরাসরি বিএনপি নেতাদের স্ত্রী বা পুত্র।
মির্জা ইয়াসির আব্বাস বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে।
ইসরাফিল খসরু বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে।
সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ফাইন্যান্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজের স্ত্রী।
কমিটিতে আরও আছেন বিভিন্ন সময়ে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদে থাকা তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা।
প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান তানজিল চৌধুরী ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিসিবির নির্বাচিত পরিচালক ছিলেন।
মির্জা সালমান ইস্পাহানি ইস্পাহানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং ফাহিম সিনহা একমি ল্যাবরেটরিজের পরিচালক। সিনহা সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান এবং পরে ফারুক আহমেদ ও আমিনুল ইসলামের বোর্ডেও ছিলেন।
রফিকুল ইসলাম বিসিবির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার আসার পর তিনি বিসিবির অন্যতম শীর্ষ কর্তা হিসেবে অধিষ্ঠিত হন।















মন্তব্য করুন: