ব্যাটিং ব্যর্থতায় দুর্বল নিউ জিল্যান্ডের কাছে হারল বাংলাদেশ

১৭ এপ্রিল ২০২৬

ব্যাটিং ব্যর্থতায় দুর্বল নিউ জিল্যান্ডের কাছে হারল বাংলাদেশ

অভিজ্ঞতা ও শক্তিমত্তার বিচারে নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে বেশ এগিয়েই ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু অনভিজ্ঞ এই দলটিকে আড়াইশর আগে আটকে রেখেও সেটিও তাড়া করতে পারল না স্বাগতিকরা। ২৬ রানে হেরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ২৪৭ রান তোলে নিউ জিল্যান্ড। জবাবে ৯ বল আগে ২২১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

এদিন নিউ জিল্যান্ডের একাদশের চেয়ে অভিজ্ঞতার দিক যোজন যোজন এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। অধিনায়ক মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস ও তাসকিন আহমেদের সম্মিলিত ওয়ানডে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাই ছিল তাদের পুরো দলের চেয়ে বেশি! এই ম্যাচের আগে এই চার ক্রিকেটার মিলে ওয়ানডে খেলেছিলেন ৩৬২টি। বিপরীতে কিউইদের পুরো একাদশের সবাই মিলে খেলেছিলেন ৩৬১ ম্যাচ।

লক্ষ্য তাড়ায় মাঝের ৩০ ওভারের ধীর ব্যাটিংয়ে খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ, যা থেকে পরে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। ১১ থেকে ৪০ ওভার পর্যন্ত ২ উইকেট হারালেও ১৩০ রান তুলতে পারে তারা। নিজেদের ইনিংসের ৫৭ শতাংশ বলে কোনো রানই তুলতে পারেনি টাইগাররা।

ন্যাথান স্মিথের পেস তোপে চতুর্থ ওভারেই জোড়া উইকেট হারিয়ে চাপে পরে বাংলাদেশ। ওভারের প্রথম বলে তানজিদ হাসান তামিমকে (২) বোল্ড করার পরের বলেই শান্তকেও বোল্ড করেন ডানহাতি এই পেসার।

তৃতীয় উইকেটে সাইফ হাসান ও লিটনের জুটিতে চাপ সামাল দিয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে ৫৯ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন সাইফ। ২৩তম ওভারে ৫৭ রান করা এই ব্যাটারের বিদায়ে ভাঙে ৯৩ রানের জুটি। দ্রুত ফেরেন ফিফটির পথে থাকা লিটনও (৪৬)। এরপরই কমে আসে রানের গতি।

ধুঁকতে থাকা আফিফ হোসেনকে (২৭) ফিরিয়ে ৭৯ বলে ৫২ রানের জুটি ভাঙেন জেইডেন লেনক্স। এরপর আর ৩৭ রান যোগ করতে বাকি ৫ উইকেট হারিয়ে ৪৮ ওভার ৩ বলে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। ছক্কা হাঁকিয়ে ফিফটি তুলে নেওয়ার পর ৫৫ রানে আউট হন হৃদয়।

ডানহাতি পেসে ৪ উইকেট নেন ব্লেয়ার টিকনার।

ব্যাটিংয়ে নেমে তাসকিন ও শরিফুল ইসলামের পেস তোপে রান তুলতে হিমশিম খায় নিউ জিল্যান্ড। সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে নিক কেলির (৭) স্টাম্প উপড়ে দিয়ে ২১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন শরিফুল। বাঁহাতি এই পেসারের পরের ওভারেই স্লিপে উইল ইয়ংয়ের সহজ ক্যাচ ছাড়েন সাইফ।

প্রথম ১০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৩৮ রান তুলতে পার সফরকারীরা। তবে মাঝের ৩০ ওভারে রানের গতি সচল রাখতে পারে তারা।

২২তম ওভারে রিশাদ হোসেনকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ইয়ং (৩০) স্লিপে ধরা পড়লে ভাঙে ৭৩ রানের জুটি। দ্রুত প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম ল্যাথামকে (১৪) বোল্ড করেন মিরাজ। পরের ওভারে ৬৮ রান করা আরেক ওপেনার নিকোলসকে কট বিহাইন্ড করান রিশাদ। এরপর রানের গতি আরও কমে আসে সফরকারীদের।

মুহাম্মদ আব্বাসকে (১৪) ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন শরিফুল। এরপর ডিন ফক্সক্রফটের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান বাড়ে । ৫৮ বলে ৫৯ রান করা এই ব্যাটারকে বোল্ড করেন নাহিদ রানা।

দুটি করে উইকেট নেন শরিফুল, তাসকিন ও রিশাদ। নাহিদ ছাড়া আর কোনো বোলাররই ওভারপ্রতি সাড়ে পাঁচের বেশি রান দেননি। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেটিও তাড়া করতে পারেনি বাংলাদেশ।

একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য করুন: