নাহিদের তোপের পর তানজিদ-শান্তর ফিফটি, সিরিজে সমতায় বাংলাদেশ

২০ এপ্রিল ২০২৬

নাহিদের তোপের পর তানজিদ-শান্তর ফিফটি, সিরিজে সমতায় বাংলাদেশ

আগুন ঝরানো বোলিংয়ে নিউ জিল্যান্ডকে দুইশর আগে আটকে রেখে অর্ধেক কাজটা করে দিয়েছিলেন নাহিদ রানা। লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট হাতে বাকি কাজটা করলেন ব্যাটাররা। তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ফিফটিতে ৬ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ।

সোমবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় নিউ জিল্যান্ড। জবাবে ৩৬ ওভারের মধ্যে লক্ষ্যে পৌঁছায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৫৮ বলে ১০ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৬ রান করেন তানজিদ। অন্যদিকে ১৩ ইনিংস পর ফিফটি হাঁকানো শান্ত অপরাজিত থাকেন ৫০ রানে। গতির ঝড় তুলে ১০ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন নাহিদ।

লক্ষ্য তাড়ায় ৪ ওভারের ভেতর ২১ রানে সাইফ হাসান (৮) ও প্রায় ছয় মাস পর একাদশে ফেরা সৌম্য সরকারের (৮) বিদায়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে তানজিদের পাল্টা আক্রমণে দ্রুতই শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে তারা। ৩৩ বলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নেন বাঁহাতি এই ওপেনার। অপর প্রান্তে তাকে সঙ্গ দিয়ে তুলনামূলক ধীরে রান তুলতে থাকেন শান্ত।

জেইডেন লেনক্সকে ছক্কা হাঁকানোর পরের বলে আরেকবার উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং-অফে ক্যাচ দেন তানজিদ। ভাঙে ১১৪ বলে ১২০ রানের জুটি। দ্রুত বিদায় নেন শততম ওয়ানডে খেলতে নামা লিটন দাসও (৭)।

ক্র্যাম্পের সঙ্গে লড়াই করে ৭১ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ক্যারিয়ারের একাদশ ফিফটি তুলে নেন শান্ত। বাঁহাতি এই ব্যাটারের সবশেষ ফিফটিও এসেছিল নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। তবে ফিফটি পূর্ণ করার পরপরই ক্র্যাম্পের সঙ্গে পেরে না ওঠায় রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

এরপর মিরাজকে নিয়ে বাকি কাজ সারেন তাওহিদ হৃদয়। ডানহাতি এই ব্যাটার ৩১ বলে ৩০ রানে এবং মিরাজ ২৫ বলে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা নিউ জিল্যান্ড ইনিংসের অষ্টম ওভারে প্রথমবারের মতো বল হাতে নিয়েই আঘাত হানেন নাহিদ। হেনরি নিকোলসকে (১৩) এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে ২৫ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন তিনি। নিজের পরের ওভারের প্রথম বলে উইল ইয়ংকেও (২) ফেরান এই ফাস্ট বোলার।

সৌম্য ১৮তম ওভারে লিটনের দারুণ ক্যাচে অধিনায়ক টম ল্যাথামকে (১৪) ফেরান। চতুর্থ উইকেটে নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাসের অর্ধশত রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল নিউ জিল্যান্ড। তবে নাহিদের বাউন্সারে উইকেটের পেছনে লিটনের দুর্দান্ত ক্যাচে আব্বাস (১৯) বিদায় নিলে ভাঙে ৫৬ রানের জুটি।

দলীয় ১৪৫ রানে ইনিংস সর্বোচ্চ ৮৩ রান করা কেলিকে তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের স্বস্তি দেন শরিফুল ইসলাম। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে শুরু করে সফরকারীরা। দারুণ এক ইয়োর্কারে লেনক্সকে বোল্ড করে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেন নাহিদ। তাসকিন আহমেদের করা ৪৯তম ওভারের চতুর্থ বলে শেষ হয় নিউ জিল্যান্ডের ইনিংস। ৪২ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় তারা।

দুটি উইকেট নেন শরিফুল। একটি করে উইকেট পান তাসকিন, সৌম্য ও রিশাদ হোসেন।

সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ আগামী বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য করুন: