পেসারদের নৈপুণ্যে নিউ জিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

২৩ এপ্রিল ২০২৬

পেসারদের নৈপুণ্যে নিউ জিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরির ওপর ভর করে লড়াকু সংগ্রহ পেয়েছিল বাংলাদেশ। লক্ষ্য তাড়ায় পেসারদের আগুন ঝরানো বোলিংয়ে তেমন প্রতিরোধ গড়তে পারল না নিউ জিল্যান্ড। মুস্তাফিজুর রহমানের পাঁচ উইকেট শিকারে ৫৫ রানের জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে ৩১ বল আগে ২১০ রানে থামে কিউইদের ইনিংস।

ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রথম ম্যাচে হারের পর পরের দুটিতে পেসারদের নৈপুণ্যে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। এই নিয়ে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জিতল টাইগাররা। তিনটিই তারা জিতেছে ঘরের মাটিতে।

সিরিজে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেই ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবারের মতো ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। ৯ ওভারে ৪৩ রানে ৫ উইকেট নেন বাঁহাতি এই পেসার। ব্যাট হাতে ১০৫ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছেন শান্ত।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেটসহ তিন ম্যাচে মোট ৮ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা হয়েছেন নাহিদ রানা। 

লক্ষ্য তাড়ায় শরিফুল ইসলাম ও মুস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে রান তুলতে হিমশিম খাওয়া নিউ জিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটির স্থায়িত্ব ছিল ৩ ওভার ২ বল। হেনরি নিকোলসকে (৪) কট বিহাইন্ড করিয়ে ৮ রানের জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজ।

উইল ইয়ংকে (১৯) ফিরিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৬ রানের জুটি ভাঙেন নাহিদ। দ্রুত অধিনায়ক টম ল্যাথামকে (৫) তুলে নেন মিরাজ। চতুর্থ উইকেটে মুহাম্মদ আব্বাসকে নিয়ে দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন নিক কেলি। তবে টানা দ্বিতীয় ফিফটিতে ৫৯ রান করা বাঁহাতি এই ওপেনারকে ফিরিয়ে ৪৭ রানের জুটি ভেঙে ব্যাটিংয়ে ধস নামান মুস্তাফিজ।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বিশাল ব্যবধানে হারের শঙ্কায় পড়েছিল কিউইরা। তবে শেষ উইকেটে ডিন ফক্সক্রফটের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৫০ রানের জুটিতে দুইশর ঘর পার করে তারা। ৭২ বলে ৭ ছক্কায় ৭৫ রান করা ডানহাতি এই ব্যাটারকে ফিরিয়ে ইনিংসের ইতি টানেন মিরাজ।

দুটি করে উইকেট নেন নাহিদ ও মিরাজ। শরিফুলের শিকার একটি।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের প্রথম পাওয়ারপ্লেতেই তিন টপ-অর্ডার সাইফ হাসান (০) ও তানজিদ হাসান তামিম (১) ও সৌম্য সরকারকে (১৮) তুলে নেন উইল ওরোর্ক।

৩২ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে টেনে তুলতে শুরুতে ধীর ব্যাটিং করেন শান্ত ও লিটন। প্রথম ম্যাচে শূন্য রান করে ফেরা শান্ত টানা দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন ৭০ বলে। অপর প্রান্তে লিটন ক্যারিয়ারের ১৩তম অর্ধশত পূর্ণ করেন ৭১ বলে।

১৯ ইনিংস পর ওয়ানডেতে এটি লিটনের প্রথম ফিফটি। সবশেষ ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পুনেতে ওপেনিংয়ে নেমে ভারতের বিপক্ষে ৬৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

জেইডেন লেনক্সকে লেগ সাইডে সরে এসে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন লিটন। ভাঙে চতুর্থ উইকেটে ১৬০ রানের জুটিটি।

সঙ্গীর বিদায়ের পর ১১৪ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শান্ত। বাঁহাতি এই ব্যাটার ওয়ানডেতে সবশেষ তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছিলেন ২০২৪ সালের মার্চে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একই ভেন্যুতে।

শেষ দিকে ব্যাটাররা দ্রুত রান তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় বড় সংগ্রহ হয়নি বাংলাদেশের। ১৮ বলে ২২ রান করে মিরাজ সাজঘরের পথ দেখার পর শেষ ২ ওভারে ৮ রান তুলতে পারে স্বাগতিকরা। হৃদয় অপরাজিত থাকেন ৩৩ রানে।

মন্তব্য করুন: