রেকর্ড গড়ে নিউ জিল্যান্ডকে হারাল বাংলাদেশ
২৭ এপ্রিল ২০২৬
নিউ জিল্যান্ডের দেওয়া বড় লক্ষ্য তাড়ায় তিন টপ অর্ডারের ধীর ব্যাটিংয়ে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে মিডল-অর্ডারে তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছেছে স্বাগতিকরা। চট্টগ্রামে নিজেদের টি-টুয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে ৬ উইকেটের জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল লিটন দাসের দল।
সোমবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ১৮২ রান তোলে নিউ জিল্যান্ড। জবাবে ২ ওভার হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছায় বাংলাদেশ।
এতদিন এই ভেন্যুতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে বাংলাদেশের জয়ে লক্ষ্য ছিল ১৭১ রানের। গত বছর নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭৪ রান করে জিতেছিল লিটনের দল। পরে ব্যাটিং করে সর্বোচ্চ সংগ্রহও ছিল সেটি।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড। সর্বোচ্চ ১৯০ রানের লক্ষ্য তাড়া করেছিল ইংল্যান্ড। ২০১৪ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়েছিল তারা।
২৭ বলে ৩ ছক্কা ও ২ চারে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংসে ম্যাচ সেরা হন হৃদয়।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই ধুঁকতে দেখা যায় সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিমকে। ১৬ বলে ১৭ রান করা সাইফের বিদায়ে ষষ্ঠ ওভারে ভাঙে ৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি। দলীয় পঞ্চাশ পূর্ণ হয় ৬ ওভার ৩ বলে।
রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টায় নবম ওভারে ইশ সোধির ওপর চড়াও হন লিটন। কিন্তু ওভারের প্রথম ৪ বলে ১০ রান নেওয়ার পর ২১ রানে বোল্ড হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১০ ওভার শেষে দলের খাতায় যোগ হয় ২ উইকেটে ৭৭ রান। পরের ওভারে সোধির দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন ২৫ বলে ২০ রান করা তানজিদ।
চতুর্থ উইকেটে কিউইদের ওপর চড়াও হন হৃদয় ও ইমন। ২৮ বলে ৫৭ রানের জুটিতে ম্যাচকে বাংলাদেশের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসেন তারা। ১৪ বলে ২৮ রান করা ইমনের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি।
এরপর ক্রিজে এসেই ঝড় তোলেন শামীম। ১৩ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। অপরপ্রান্তে ২৬ বলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি পূর্ণ করেন হৃদয়। পঞ্চম উইকেটে ২১ বলে ৪৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন দুই ব্যাটার।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নামা নিউ জিল্যান্ডের দ্বিতীয় ওভারে হৃদয়ের সরাসরি থ্রোতে টিম রবিনসন (১) রানআউট হলে শেষ হয় ১২ রানের উদ্বোধনী জুটি। এরপর ওপেনার ক্যাটেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লিভারের ফিফটিতে দুইশ রানের পথে ছিল তারা।
দশম ওভারের প্রথম বলে ক্লার্কের ক্যাচ তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন সাইফ। তবে চতুর্থ ডেলিভারিতে ২৮ বলে ৫১ রান করা ডানহাতি এই ব্যাটারকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে ৮৮ রানের জুটি ভাঙেন রিশাদ হোসেন। নিজের পরের ওভারে ক্লার্ককেও (৫১) তুলে নেন এই লেগ স্পিনার।
প্রথম ১০ ওভারে ২ উইকেটে ১০০ রান তোলা কিউইরা পরের ৫ ওভারে ৩০ রান তুলতে হারায় ৩ উইকেট। তবে শেষ ৫ ওভারে টম ল্যাথামের বদলে এই ম্যাচে নেতৃত্ব দিতে নামা নিক কেলি ও জশ ক্লার্কসনের ব্যাটে লড়াকু সংগ্রহ পায় সফরকারীরা। ৩৯ রান করা কেলিকে ফেরান শরিফুল ইসলাম। ১৪ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন ক্লার্কসন।
৩২ রানে ২ উইকেট নেন রিশাদ।
একই মাঠে আগামী বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।















মন্তব্য করুন: