চ্যালেঞ্জ দিয়ে জিতল বাংলাদেশ

চ্যালেঞ্জ দিয়ে জিতল বাংলাদেশ

ব্যাটাররা দ্রুত রান তোলায় মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির আগেই পাকিস্তানকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিয়ে ইনিংস ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ। তবে দুই সেশনেরও বেশি বাকি থাকায় নিরাপদে থাকার মতো সংগ্রহ ছিল না সেটি। কিন্তু রান তাড়ায় পেসারদের তোপে বেশি দূর যেতে পারেনি সফরকারীরা। ১০৪ রানের জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে এগিয়ে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃষ্টিবিঘ্নিত সিরিজের প্রথম টেস্টের শেষ দিন ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১৬৩ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। এর আগে ৯ উইকেটে ২৪০ রানে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের টানা তৃতীয় টেস্ট জয়। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে দুই ম্যাচের সিরিজে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল শান্তর দল।

ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৪০ রানে ৫ উইকেট নেন নাহিদ রানা। প্রথম ইনিংসে ১০১ রানের ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন অধিনায়ক শান্ত।

চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল জানিয়েছিলেন, শেষ দিন দ্রুত ব্যাটিং করে ২৬০ রানের মতো লক্ষ্য দিতে চান তারা। সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হয়ে আসা সালমান আলী আগাকে এই পরিকল্পনার কথা জানালে তিনি উল্টো বাংলাদেশকে ৭০ ওভারে ২৬০ রানের লক্ষ্য দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তবে কাছাকাছি লক্ষ্য পেলেও চ্যালেঞ্জে জিততে পারল না তার দল।

৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করা বাংলাদেশ ব্যাটিং করে মোট ২০ ওভার। শুরুতেই তারা হারায় মুশফিকুর রহিমের (২২) উইকেট। লিটন দাসও (১১) টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। আগ্রাসী মেজাজে খেলতে গিয়ে সেঞ্চুরির পথে থাকা শান্তর বিদায়ের পর দ্রুত ফেরেন ২৭ বলে ২৪ রান করা মেহেদী হাসান মিরাজ। একটি করে চার ও ছক্কায় ১১ রান করা তাসকিন আহমেদ বিদায় নিলে ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা।

মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির আগে ৪ ওভার ব্যাটিংয়ের জন্য নামতে হয় পাকিস্তানকে। প্রথম ওভারের শেষ বলে ইমাম-উল-হককে (২) কট বিহাইন্ড করান তাসকিন। বিরতির পর দুই অভিষিক্ত আজান ওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজলের পাল্টা আক্রমণে চাপ কাটিয়ে উঠতে শুরু করে সফরকারীরা। কিন্তু প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আজানকে (১৫) বোল্ড করে ৫৪ রানের জুটি ভাঙেন মিরাজ।

খানিকবাদে অধিনায়ক শান মাসুদকে (২) কট বিহাইন্ড করিয়ে ইনিংসে নিজের প্রথম শিকার ধরেন নাহিদ। চতুর্থ উইকেটে ফজল ও সালমানের অর্ধশত রানের জুটিতে আবারও চাপ কাটিয়ে উঠতে শুরু করে পাকিস্তান। এবার ফজলকে (৬৬) এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে ৫১ রানের এই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। পরের ওভারে সালমানকে (২৬) তুলে নেন তাসকিন।

সৌদ শাকিল ও মুহাম্মদ রিজওয়ান কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও বাধা হয়ে দাঁড়ান নাহিদ। তার গতিতে দিশেহারা হয়ে ১১ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শান্তর সেঞ্চুরি ছাড়াও মুমিনুল হকের ৯১ ও মুশফিকের ৭১ রানের সুবাদে ৪১৩ তোলে বাংলাদেশ। জবাবে মেহেদী হাসান মিরাজের ৫ উইকেট শিকারে ৩৮৬ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। প্রথম ইনিংস শেষে স্বাগতিকরা লিড পায় ২৭ রানের।

সিরিজের শেষ ম্যাচ সিলেটে শুরু হবে আগামী শনিবার।

মন্তব্য করুন: