আত্মবিশ্বাস থেকেই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ

আত্মবিশ্বাস থেকেই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ

বৃষ্টির বাধায় ভেসে গিয়েছিল দুই সেশনেরও বেশি সময়ের খেলা। চতুর্থ দিনের খেলা শেষেও মনে হচ্ছিল ড্রয়ের দিকে যেতে পারে ম্যাচ। তবে শেষ দিনের সকালের সেশনে দ্রুত রান তুলে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির আগে ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তানকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিয়ে সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। আর ম্যাচ শেষে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানিয়েছেন, জয়ের আত্মবিশ্বাস থেকেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার মিরপুর শের--বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পঞ্চম শেষ দিন পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। খেলার তখনও দুই সেশনের বেশি বাকি থাকায় নিরাপদে থাকার মতো সংগ্রহ ছিল না সেটি। কিন্তু তাসকিন আহমেদ নাহিদ রানার পেস তোপে ৫৩ ওভারে ১৬৩ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। স্বাগতিকরা ম্যাচ জেতে ১০৪ রানে।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির আগে ইনিংস ঘোষণার প্রসঙ্গে অধিনায়ক শান্ত বলেন, “আমাদের বোলিং আক্রমণ মানসম্পন্ন। এই পিচে রানা, তাসকিন, তাইজুল দারুণ বল করেছেন। আত্মবিশ্বাস ছিল বলেই সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলাম।

উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করা বাংলাদেশ এদিন আরও ২০ ওভার ব্যাটিং করে উইকেটে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। দ্রুত রান তুলতে গিয়ে এই ইনিংসেও সেঞ্চুরির পথে থাকা শান্ত ফেরেন ৮৭ রান করে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ইনিংস ঘোষণা দেওয়াকে সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

আমার মনে হয় যে ব্যাটিং আমরা সকাল থেকে ক্লিয়ার ছিলাম আমরা কি করতে চাই। আমাদের সত্যিই ইচ্ছা ছিল আরো ১৫-২০ টা রান করার। কিন্তু কখনও কখনও আমার মনে হয় যে এরকম সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়াটাও জরুরি। টেস্ট টিমটা ধীরে ধীরে উন্নতি করতেছে, উপরের দিকে যাচ্ছে আমার মনে হয়। তাই আমরা একটু সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার মনে হয় যে এটা সামনের দিকে আমাদেরকে সাহায্য করবে এই সিদ্ধান্তটা।

এই টেস্ট ম্যাচে আমরা যে ডিক্লেয়ারটা করেছি এটা অনেক বড় সিদ্ধান্ত ছিল যেটা সাধারণত আমাদের টিম কখনও করে না এভাবে। তাই এই জিনিসটা আমাদের ভবিষ্যতে কাজে দেবে এবং এই জিনিসটা এই সিদ্ধান্তটা হয়তো ভবিষ্যতে আমাদেরকে আরো আত্মবিশ্বাস দেবে যে, এখান থেকে এভাবে ম্যাচ জেতা সম্ভব। তাই এটা আমি বলব যে সবথেকে নতুন একটা জিনিস হয়েছে পুরা টেস্ট ম্যাচে।

কোচদের থেকে কেবল জয়ের বার্তা ছিল বলে জানান শান্ত। সে কারণে পুরো দল আগ্রাসী মনোভাব নিয়েই খেলে পুরো দল।

আজকে সকাল থেকে আমাদের একটা মেসেজ ছিল যে আমরা খেলাটা জিতার জন্য খেলব, পরিস্থিতি যেরকমই থাক। চা বিরতিতেও কোচ ওই মেসেজটাই দিয়েছে এবং আমরা সবাই ওই বিশ্বাসটা নিয়ে ঢুকেছিলাম যে, এখান থেকে আমরা খেলাটা জিতব এবং যদি না জিততে পারি তাহলে ওদের যেন কষ্ট হয় খেলাটা বাঁচাতে। এরকমই মন মানসিকতা ছিল। একবারের জন্যও আমরা ওরকম চিন্তা করিনি যে খেলা এখান থেকে আমরা হেরে যেতে পারি বা এখান থেকে আমরা খেলাটা ড্র করতে চাই। আমাদের ওই আগ্রাসী মনোভাবই ছিল এবং আমরা জেতার জন্য চেষ্টা করেছি।

মন্তব্য করুন: