৫ উইকেট নিয়ে নাহিদের অনন্য কীর্তি
১২ মে ২০২৬
নাহিদ রানার বাউন্সারে শাহিন শাহ আফ্রিদি পরাস্ত হতেই জয়ের উল্লাসে মেতে উঠল পুরো বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে দলের দুর্দান্ত জয়ে এই তরুণ ফাস্ট বোলার এমন এক কীর্তি গড়েছেন যা দেশের টেস্ট ক্রিকেটের ২৬ বছরের ইতিহাসে কোনো পেসার করতে পারেননি।
ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ক্যারিয়ার সেরা বোলিংও করেন নাহিদ। কোনো টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন ২৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনে স্বাগতিকদের দেওয়া ২৬৮ রানের লক্ষ্য সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ান যখন ক্রিজে থিতু হয়েছিলেন, তখনও বাংলাদেশ জয় থেকে বেশ দূরেই ছিল। তবে ক্রমেই সেই দৃশ্যপট বদলে দেন নাহিদ। চা বিরতির পর প্রথমবারের মতো বোলিংয়ে এসেই শাকিলকে কট বিহাইন্ড করিয়ে ভাঙেন ষষ্ঠ উইকেটে ৩১ রানের জুটিটি।
এরপর নাহিদের গতিতে দিশেহারা হয়ে আর ১১ রান যোগ করতেই ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। বাংলাদেশ জয় পায় ১০৪ রানে।
প্রথম স্পেলে ১ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় স্পেলে ৪.৫ ওভারে ১০ রান দিয়ে আরও ৪ উইকেট নেন নাহিদ। ইনিংসে তার বোলিং ফিগার ৪০ রানে ৫ উইকেট।
এর আগে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে সেরা বোলিং ফিগার ছিল তাসকিন আহমেদের। ২০২৩ সালে মিরপুরেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩৭ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি ৩৭ রানে।
সব মিলিয়ে দেশের ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে চতুর্থ ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেন নাহিদ।
অনন্য এই কীর্তি গড়ার পাশাপাশি পেসারদের দীর্ঘদিনের একটি খরাও কাটিয়েছেন ডানহাতি এই ফাস্ট বোলার। ১৬ বছর পর বাংলাদেশের কোনো পেসার হিসেবে ঘরের মাঠে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলেন তিনি।
সবশেষ ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রামে ৭১ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন শাহাদাত হোসেন। এর আগে ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে ২৭ রানে ৬ উইকেট এবং ২০০৬ সালে বগুড়ায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮৬ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ডানহাতি এই পেসার।
শাহাদাতের পর দেশের মাটিতে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া পেসার দ্বিতীয় পেসার এখন নাহিদ।















মন্তব্য করুন: