টেলএন্ডারদের নিয়ে সতর্ক লড়াই লিটনের

টেলএন্ডারদের নিয়ে সতর্ক লড়াই লিটনের

দলের শেষ স্বীকৃত ব্যাটার মেহেদী হাসান মিরাজ যখন সাজঘরের পথ দেখেন, তখন রানে ব্যাট করছিলেন লিটন দাস। সেখান থেকে টেইলএন্ডারদের নিয়ে ইনিংসের বাকি অংশের বেশির ভাগ সময় স্ট্রাইক নিজের কাছে রেখে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পাশাপাশি দলকে বিপর্যয় থেকেও টেনে তোলেন তিনি। দিনের খেলা শেষে এই উইকেটকিপার-ব্যাটার জানান, টেইলএন্ডারদের সঙ্গে নিয়ে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচানোর লড়াইয়ে সতর্ক থাকতে হয়েছে তার।

শনিবার সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় শেষ টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে তিন বোলার তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ শরিফুল ইসলামকে নিয়ে দলের খাতায় ১৬২ রান যোগ করেন লিটন, যেখানে তার রান ১২৪।

ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতে ১২৬ রান করেন লিটন। ১৫৯ বলের ইনিংসটি সাজান ১৬ চার ছক্কায়। তার এই ইনিংসের ওপর ভর করে ২৭৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

দিনের খেলা শেষে লিটন বলেন, “আমি যখন টেস্ট ক্রিকেটে খেলি কখনও ব্যাটিং করা লাগে মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে, মিরাজের সঙ্গে। যখন ব্যাটসম্যান থাকে মাইন্ডসেটটা পুরো আলাদা থাকে কারণ আপনি জানেন সিঙ্গেল হয়ে গেলে সিঙ্গেল হয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের টেইলগুলো (লোয়ার-অর্ডার ব্যাটার) তো খুব একটা শক্তিশালী না যাদেরকে আমি প্রতি ওভারে চার-পাঁচ বল খেলার সুযোগ করে দিব।

অবশ্যই আমাদের টেইল যদি আরও ভালো ব্যাটিং করে ভবিষ্যতে তাহলে এই সুযোগগুলো থাকবে যে আমি প্রথম বলে এক নিলেও তারা খেলতে পারবে।

এই ইনিংসটাতে সেঞ্চুরির চেয়ে বড় জিনিস যে আমাদের টেইলে যারাই ব্যাটিং করছে তাইজুল ভাই, তাসকিন, শরিফুল - এই তিনজন ব্যাটসম্যানই অনেকগুলা বল খেলেছে। যেটা একটা বড় টোটাল। দেখেন, স্বাভাবিক তারা তো রান করবে না, রান আমাকেই করতে হবে একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে। রান করার দায়িত্বটাও আমার। কিন্তু ওরা যখন উইকেটে থাকে জীবনটা সহজ হয়ে যায় আমার জন্য।

টেইলএন্ডারদের বেশি স্ট্রাইক না দেওয়ার প্রসঙ্গে তাসকিন আহমেদের আউটের উদাহরণ টানেন লিটন। খুররাম শেহজাদের নতুন ওভারের প্রথম বল খেলতে গিয়েই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তাসকিন।

ওই যে আমি বললাম যে আমার টেইলএন্ডারগুলো তো এত ভালো না যে আমি বিশ্বাস সহকারে দিয়ে দিতে পারব ছয় বলের জন্য। একজনকে দিয়েছিলাম সে প্রথম বলে আউট হয়ে গেছে। ওর পরে আমি আরও নিজে সতর্ক হয়ে গেছি।

মিরাজের বিদায়ের পর তাইজুল যখন ক্রিজে আসেন তখন দলের সংগ্রহ ছিল উইকেটে ১১৬ রান। সে অবস্থায় দুইশ রানও বেশ কঠিন মনে হচ্ছিল দলের জন্য। তবে তাইজুল শরিফুলকে নিয়ে দুটি অর্ধশত রানের জুটি গড়ে আড়াইশ পার করান লিটন।

সময় টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে আলাদা বার্তা পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার লক্ষ্য ছিল যে কীভাবে টিমকে ২০০ রান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যায়। অবশ্যই লক্ষ্যটা আমাকেই পূরণ করতে হবে। আমার টেইল তো রান করবে না, রান আমাকেই করতে হবে। তো আমি একটা তথ্য পাঠিয়েছিলাম যে আমরা কি অ্যাটাকিং যাব কি? তো উপর থেকে বলেছে রানের জন্য খেলার জন্য। তো আমি চেষ্টা করেছি রান করার।

মন্তব্য করুন: