নিজের প্রতি প্রত্যাশা রাখেন না নাহিদ

নিজের প্রতি প্রত্যাশা রাখেন না নাহিদ

গতির ঝড় তুলে ইতোমধ্যে ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন তুলেছেন নাহিদ রানা। সমর্থকদের মধ্যেও তাকে নিয়ে বাড়ছে প্রত্যাশা। তবে এসবে কোনো পাত্তা দিচ্ছেন না তিনি। নিজের ওপর কোনো প্রত্যাশা না রাখা তরুণ এই ফাস্ট বোলার জানিয়েছেন, তার মনোযোগ কেবল অধিনায়কের পরিকল্পনা এবং নিজের দক্ষতার সঠিক প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান।

রোববার সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় শেষ টেস্টের দ্বিতীয় দিন নাহিদের তিন উইকেট শিকারে ২৩২ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশ দিনের খেলা শেষে এগিয়ে আছে ১৫৬ রানে, হাতে আছে উইকেট।

মিরপুর টেস্ট জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন নাহিদ। তার গতিতে দিশেহারা হয়ে লক্ষ্য তাড়ায় ১১ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান। এর আগে জাতীয় দলের সবশেষ দুই ওয়ানডে সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছিলেন তিনি। পাকিস্তান সুপার লিগের ফাইনালের আগে তাকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল তার ফ্র্যাঞ্চাইজি পেশোয়ার জালমি। সব মিলিয়ে ২৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে নিয়ে প্রত্যাশার পারদ বাড়ছেই।

এত প্রত্যাশা নাহিদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে কি না – জানতে চাওয়া দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,  আসলে প্রথমত আমি আশেপাশে কী কথা হচ্ছে এই জিনিসগুলো দেখতেছি না কারণ নিজের প্রতি প্রত্যাশা সেরকম নেই। কারণ প্রত্যাশা কখনও ভালো কিছু নিয়ে আসে না।

আমার শুধু আমার স্কিল যে জিনিসটা সেই জিনিসটা আমি মাঠে গিয়ে এক্সিকিউট করার চেষ্টা করি এবং আমি চেষ্টা করি যে আমার টিম আমার কাছ থেকে কী চাইতেছে এবং আমার ক্যাপ্টেন আমাকে কী প্ল্যান দিতেছে। এই জিনিসগুলো আমি এক্সিকিউট করতে পারতেছি কিনা এই জিনিসটার উপরে আমার সবসময় মনোযোগ থাকে।

প্রত্যাশা যখন নিজের প্রতি নিজে রাখব তখন ধরেন একটা বাড়তি চাপ। এই জিনিসটা আমি নিজের প্রতি নিজে রাখতেছি না। চেষ্টা করতেছি যতটুকু পারা যায় নিজের স্কিল অনুযায়ী টিমকে সাহায্য করার।

মিরপুরে প্রথম টেস্টে ব্যাটিংয়ের সময় শাহিন শাহ আফ্রিদির বাউন্সার খেয়েছিলেন নাহিদ। পরে বল হাতে শেষ ইনিংসে বাউন্সার দিয়েই শাহিনকে তুলে নিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচ শেষে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মজার ছলে জানিয়েছিলেন, তিনি বোলার হলে নাহিদকে কখনোই বাউন্সার মারতেন না।

দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাউন্সারের প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে হাসিমুখে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে নাহিদ বলেন, “বাউন্সার দিতে ভাববে কিনা জানি না তবে এতটুক বলতে পারি আমাকে কেউ বাউন্সার মারলে আমি তাকে ছেড়ে কথা বলব না। এটা বলতে পারি।

মন্তব্য করুন: