শান্তর কাছে এখন পর্যন্ত টেস্টে এটাই বাংলাদেশের সেরা অর্জন

শান্তর কাছে এখন পর্যন্ত টেস্টে এটাই বাংলাদেশের সেরা অর্জন

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে টানা চার জয়কে এই ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সেরা অর্জন হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৩ টেস্টে জয়শূন্য থাকার পর ২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে তাদের মাটিতে সিরিজের দুই ম্যাচই জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে দাপুটে পারফরম্যান্সে সফরকারীদের একই ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশড করল টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে জিম্বাবুয়ের পর দ্বিতীয় কোনো দলের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট জিতল তারা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্তর কাছে জানতে চাওয়া হয়, টেস্টে এটাই বাংলাদেশের সেরা অর্জন কি না? জবাবে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত। তবে আমি মনে করি যে, সামনে আরও অনেক টেস্ট ম্যাচ বাংলাদেশ খেলবে। ওখানে আরও ভালো অর্জন হবে, এটাই আশা থাকবে। সব মিলিয়ে বলব যে, এই চারটা ম্যাচ অনেক স্পেশাল। আমরা অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছি।

তবে অল্পতেই তুষ্ট হচ্ছেন না দেশের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক। দলের মান নিয়ে যেতে চান আরও উপরে। বিশেষ করে আগামী আগস্টে অস্ট্রেলিয়ায় এবং বছরের শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টেস্ট সিরিজ দুটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে চান তিনি। 

যেটা সবসময় বলি, আমাদের টেস্ট টিম আস্তে আস্তে গড়ে তুলতে হবে। আরও অনেক জায়গা আছে উন্নতির। ওই জায়গাগুলো ঠিকঠাক করতে হবে। ওসব ঠিকঠাক করে যখন আমরা দেশে এবং দেশের বাইরে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলব, তখন বলব যে আমাদের দলটা আগের থেকে ভালো অবস্থানে যাচ্ছে।

গত দুই-তিন বছর ধরে বলব যে উন্নতি হচ্ছে, এগোচ্ছি আমরা। তবে গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা যখন আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ব, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের খেলা আছে, ওসব জায়গায় আমরা কত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে পারছি, এসব গুরুত্বপূর্ণ।

৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শেষ দিন জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২১ রান, আর বাংলাদেশের লাগত ৩ উইকেট। ফিল্ডারদের ভুলের সুযোগ নিয়ে প্রথম ৯ ওভারে ৪২ রান তুলে স্বাগতিকদের চাপে রেখেছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। কিন্তু এরপরই সাজিদকে ফিরিয়ে তাইজুল ইসলাম ৫৪ রানের এই জুটি ভাঙতেই দ্রুত শেষ হয়ে যায় ইনিংস। কোনো রান যোগ করা ছাড়াই ১৩ বলের ভেতর শেষ ৩ উইকেট হারিয়ে সফরকারীরা অলআউট হয় ৩৫৮ রানে।

দিনের প্রথম এক ঘণ্টায় চাপে থাকলেও খেলোয়াড়রা বিচলিত না হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন শান্ত। তবে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে বড় দল হতে হলে এমন পরিস্থিতে আরও ধীরস্থির থাকতে হবে বলে মত দেন তিনি।

ওই এক ঘণ্টার আবেগ ব্যাখ্যা করা মুশকিল। সত্যি বলতে, ওরা ভালো ব্যাটিং করছিল। আমরা একটু চাপেও ছিলাম। তবে একটা ব্যাপার বলব যে, আগের টেস্ট ম্যাচগুলো থেকে আস্তে আস্তে এখন ওই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা, প্যানিক না করা, এসব আরও ভালো হয়েছে। যদিও ওখানে আরও উন্নতির জায়গা আছে, বড় দলগুলি এখানে আরও ধীরস্থির থাকে। তবে আগের চেয়ে আরও উন্নতি হওয়ায় অধিনায়ক হিসেবে আমি খুশি।

মন্তব্য করুন: