বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় জায়গা করে নিতে চাই: তাওহিদ হৃদয়

বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় জায়গা করে নিতে চাই: তাওহিদ হৃদয়

মায়ের সাথে জেদ করে পাড়ি জমান ঢাকায়। বাধা-বিপত্তি কম পেরুতে হয়নি। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগও পেয়ে যান। পারফর্মও করেন । ২০২৩ বিপিএলেও ছিলেন তিনি উজ্জ্বল। ডাক পেয়েছেন জাতীয় দলেও।  বলছি তাওহিদ হৃদয় - এর কথা। একজন ক্রিকেটার হয়ে ওঠা থেকে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া - সব গল্পই তিনি করেছেন নোমান মোহাম্মদের সাথে...

 

নোমান মোহাম্মদ: বিপিএলে অসাধারণ পারফর্ম এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পাওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন। আমার প্রথম এবং কঠিন প্রশ্ন- অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়, নাকি প্রথবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পাওয়া- কোনটি বেশি আনন্দের? 

তাওহিদ হৃদয়: অবশ্যই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় আমার কাছে বেশি আনন্দের।

নোমান মোহাম্মদ: জাতীয় দলে সুযোগের খবরটি প্রথম কীভাবে শুনেছেন? কার কাছে শুনেছেন?

তাওহিদ হৃদয়: সেদিন বিপিএলের ফাইনাল ম্যাচ চলছিল, আমরা হেরেছিলাম। ম্যাচ শেষে প্রেজেন্টেশনের সময় অনেকেই অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন, কিন্তু তখনও আমি বুঝতে পারিনি। একদিকে ফাইনাল হেরেছি এবং নিজেও খারাপ খেলেছিলাম। পরবর্তীতে সেখানেই কোন একজনের কাছ থেকে এটি জানতে পারি যে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছি।

নোমান মোহাম্মদ: ফাইনালে হার এবং নিজের পারফর্মে মন স্বাভাবিক ভাবেই খারাপ ছিল। জাতীয় দলে সুযোগের কথা জেনে নিশ্চয় ভালো হয়েছে?

তাওহিদ হৃদয়: পুরোপুরি ভালো হয়নি আসলে। কারণ, পরপর দুটি ফাইনাল ম্যাচে খেলেছি, দুটিই হেরেছি। জাতীয় দলে সুযোগের কথা শুনে মন একটু ভালো হয়েছিল; একটু খুশি হয়েছিলাম।

নোমান মোহাম্মদ: বিপিএলে এমন পারফর্মে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া প্রত্যাশিত ছিল কিনা আপনার কাছে?

তাওহিদ হৃদয়: সত্যি বলতে সেভাবে কখনও চিন্তা করিনি। কিন্তু বিপিএলের আগে থেকে বা যখন থেকে ক্রিকেট শুরু করি, বিশ্বাস ছিল যদি ভালো খেলতে থাকি তাহলে জাতীয় দলে সুযোগ পাব।

বিশ্বাস ছিল যদি ভালো খেলতে থাকি তাহলে জাতীয় দলে সুযোগ পাব: তৌহিদ হৃদয়নোমান মোহাম্মদ: আমার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মধ্যে নিজের পারফর্ম উন্নত করা ক্রিকেটারদের অন্যতম একজন আপনি। বিপিএলের এবারের আসরে হাঁকিয়েছেন পাঁচটি ফিফটি। যার চারটি ছিল ম্যাচ জয়ী ইনিংস। একদম টি টোয়িন্টি মেজাজে ব্যাটিং করেছেন। পরিবর্তনটা কোথায় এনেছেন?

তাওহিদ হৃদয়: মানসিক চিন্তা-ভাবনা এবং ব্যাটিংয়ের কিছু কৌশলগত দিক নিয়ে মূলত কাজ করেছি। চেষ্টা করেছি ম্যাচের চাহিদা অনুযায়ী খেলার। এছাড়া, ব্যক্তিগত ইচ্ছাও ছিল এই ফরম্যাটে ভালো করার। এই ছোট ছোট চিন্তা-ভাবনা পরিবর্তন থেকেই হয়তো ফল পেয়েছি এবং ভালো করতে পেরেছি। 

নোমান মোহাম্মদ: গত বছর বিপিএলে খেলেছেন বরিশালের হয়ে। সেই সময়টা আপনার জন্যে খারাপ কেটেছে। খুব একটা পারফর্ম করতে পারেননি। ঠিক কোন জায়গায়গুলো নিয়ে মূলত কাজ করেছেন?

তাওহিদ হৃদয়: মূলত ‘রেঞ্জ হিটিং’ এবং আমার সামর্থ্যের জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করেছি। বিপিএলে যে ধরণের উইকেট থাকে, ম্যাচের যে পরিস্থিতি সাধারণত বিপিএলে দেখা যায়, সেগুলো কীভাবে সামাল দেয়া যায় এসব নিয়েই কাজ করেছি।

নোমান মোহাম্মদ: শুরুর দিকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে একটি ম্যাচে ইনিংসের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। কৌশলগত পরিবর্তন না কি মানসিক দিক থেকে?

তাওহিদ হৃদয়: মানসিক চিন্তাভাবনা থেকেই করেছি এটা। আগে থেকেই এমনটি ইচ্ছা ছিল যে মাঠে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা মারব। 

নোমান মোহাম্মদ: কেন? এমন ইচ্ছে কেন আসলো?

তাওহিদ হৃদয়: গতবছর ফাইনাল হেরেছিলাম কুমিল্লার বিপক্ষেই। শেষ ওভারে ১০/১১ রান প্রয়োজন ছিল এবং আমি পিচে ছিলাম। সেই সময় কোন বাউন্ডারি মারতে পারিনি। তখন থেকে একটা জেদ কাজ করত নিজের মধ্যে এবং পরিকল্পনা ছিল, পরবর্তীতে সুযোগ পেলে কুমিল্লার বিপক্ষে প্রথম বলেই ছক্কা মারব। 

নোমান মোহাম্মদ: যদি আপনার ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারের কথা বলি, শুরুর পথচলার কথা বলি সেখানেওতো জেদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আপনি বিকেএসপিতে খেলতে চেয়েছিলেন কিন্তু খেলতে পারেননি। বগুড়া থেকে এসেছেন ঢাকায়। এই গল্পটা যদি বলেন…

মা বলেছিলেন, ‘বাবা তোমাকে টাকাটা দিচ্ছি, তুমি তোমার স্বপ্ন পূরণ কর'

তাওহিদ হৃদয়: ছোটবেলায় ধারণা ছিল, বিকেএসপিতে গেলেই হয়তো খেলোয়াড় হওয়া যায়। বাবা সরকারি চাকরি করতেন এবং ক্রিকেট একদমই পছন্দ করতেন না। ক্রিকেট নিয়ে নানান জেদ মূলত মায়ের কাছেই। শেষ পর্যন্ত বিকেএসপিতে ভর্তি হতে পারিনি। এরপর ঢাকায় বাংলাদেশ ক্রিকেট স্কুল নামে একটি একাডেমির কথা শুনি এবং সেখানে ভর্তির হবার ইচ্ছা জানাই মায়ের কাছে। মা যদিও ক্রিকেট তেমন বুঝতেন না, কিন্তু অতিরিক্ত জেদের কারণে পরবর্তীতে বাবাকে না জানিয়ে জমি বন্ধক রেখে টাকা দিয়েছিলেন। মা তখন একটা কথা বলেছিলেন আমার এখনও মনে আছে, ‘বাবা তোমাকে টাকাটা দিচ্ছি, তুমি তোমার স্বপ্ন পূরণ কর।' কিন্তু শেষ পর্যন্ত একাডেমিতে আসার পর বেশিদিন থাকা হয়নি। আমি যেখানে থাকতাম সেখান থেকে খেলার মাঠটা ছিল অনেক দূরে এবং মাঠ অতিরিক্ত বালিতে ভরা ছিল। বাতাসে মাঠের বালি চোখে চলে আসতো। তাই, চোখে অ্যালার্জি-জনিত সমস্যায় কিছু দিনের মধ্যে বাসায় ফিরে যাই সব টাকা নষ্ট করে।

নোমান মোহাম্মদ: কত টাকা নষ্ট করেছিলেন? মা কত টাকা দিয়েছিলেন?

তাওহিদ হৃদয়: সেই সময় ৮০ হাজার টাকার মতো দিয়েছিলেন মা।

নোমান মোহাম্মদ: এটি কত সালের ঘটনা?

তাওহিদ হৃদয়: ২০১২/১৩ সালের ঘটনা এটি।

নোমান মোহাম্মদ: কোন শ্রেণিতে পড়তেন?

তাওহিদ হৃদয়: পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তাম হয়তো। খুব সম্ভবত ষষ্ঠ শ্রেণিতে। 

নোমান মোহাম্মদ: এত কম বয়সে জেদ করে টাকা নিয়ে ঢাকা চলে এসেছিলেন?

তাওহিদ হৃদয়: ছোটবেলা থেকেই মা আমাকে অনেক ভালবাসেন। মায়ের এমন সাপোর্ট থেকেই মূলত এমন সাহস হয়েছিল।

নোমান মোহাম্মদ: আপনারা ভাই-বোন কয়জন?

তাওহিদ হৃদয়: আমিই একমাত্র ছেলে। বড় এবং ছোটবোন আছেন।

নোমান মোহাম্মদ: সে সময় পুরো টাকা নষ্ট করে ফেলেছিলেন। পরবর্তীতে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর বাবা কি বলেছিলেন?

তাওহিদ হৃদয়: বাবা অনেক মন খারাপ করেছিলেন। অনেকদিন যাবত আমার সাথে কথা বলেননি তিনি। তখনও জানতেন না যে জমি বন্ধক রাখা হয়েছিল। মা যার কাছে জমি বন্ধক রেখেছিলেন তাকে সেভাবেই বলেছিলেন যাতে বাবা না জানতে পারে। ক্রিকেট না বুঝেও মা প্রতিটা ধাপেই আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। এরপর জেলাভিত্তিক এজ লেভেল দলে, অনূর্ধ্ব-১৬ খেলার পর ডিভিশনে ডাক পেলাম। ডিভিশনে ভালো খেলায় পরবর্তীতে অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে সুযোগ পাই। সে অনূর্ধ্ব-১৭ দলে বলা হয়েছিল আমি টিমে থাকব, কিন্তু সেটা হয়নি। সে বছর জেএসসি পরীক্ষাটিও দেয়া হয়নি। বাবা তখন আরও রাগ করেছিলেন আমার ওপর। সামগ্রিক সবকিছু মিলেয়ে মানসিকভাবে তখন অনেক পিছিয়ে পড়ি। 

নোমান মোহাম্মদ: তখন কি আপনার মনে হয়েছিল যে ধূর, ক্রিকেট খেলা বাদ দিয়ে দেই?

তাওহিদ হৃদয়: অনূর্ধ্ব-১৭ তে স্ট্যান্ড বাই ছিলাম। অনূর্ধ্ব-১৮ ডিভিশনে তেমন একটা পারফর্ম করতে পারিনি। তখন মানসিকভাবে শতভাগ প্রস্তুত ছিলাম আর খেলব না। ইচ্ছাটিও হারিয়ে গিয়েছিল দেখে বাসায় ফিরে গিয়েছিলাম। পরে মহিউদ্দিন স্যার (প্রয়াত) হঠাৎ একদিন আমাকে রাজশাহী আসতে বললেন। যেতে না চাইলে তিনি বলেন, এখানে একটি টুর্নামেন্ট চলছে সেটিতে শুধু অংশগ্রহণ কর। স্যারের কথা শুনে পরবর্তীতে সেখানে যাই এবং ভালো পারফর্ম করি। এরপর একদিন স্যার হঠাৎ বলেলেন, একটা বছর মনোযোগ দিয়ে খেলে যাও, তোমার যাবতীয় সকল খরচ আমি বহন করব। 

নোমান মোহাম্মদ: খালেদ মাহমুদ সুজনের সাথে আপনার কোথায় দেখা হয়েছিল?

তাওহিদ হৃদয়: সে সময়, রাজশাহীতেই। রাজশাহী থাকাকালীন মহিউদ্দিন স্যারের মাধ্যমেই সুজনের স্যারের সাথে দেখা হয়। আসলে জানতাম না যে স্যার কেন আমাকে এক বছর থাকতে বলেছিলেন। হয়তো এটিই কারণ ছিল যে সুজন স্যার আমার খেলা দেখবেন। সুজন স্যার আমাকে প্রথমেই পছন্দ করেন এবং ফার্স্ট ডিভিশনে খেলার সুযোগ করে দেন। জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগ ছিল এটি। সুজন স্যার যদি তখন সাহায্য না করতেন হয়ত আমি আর পরবর্তীতে ক্রিকেট খেলতাম না। কারণ যেসময়টাতে ইচ্ছেটাই হারাতে বসেছিলাম ঠিক সে সময়টাতে সুজন স্যার সবচেয়ে বড় সুযোগটা দিয়েছিলেন আমাকে।

নোমান মোহাম্মদ: অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শুরুতেও অধিনায়ক ছিলেন; পরবর্তীতে সেটি আকবর আলীকে দেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ কী?

তাওহিদ হৃদয়: আমাকে নিয়ে সুজন স্যারের আশা অনেক বেশি ছিল। ২০১৮ তে একটা বিশ্বকাপ ভালো খেলেছিলাম। একটি সেঞ্চুরিও পেয়েছিলাম। কয়েক ম্যাচে রান না পাওয়ার পর, সুজন স্যার ডেকে অধিনায়কত্ব ছেড়ে পুরোপুরি ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ দিলেন। ক্যাপ্টেন্সির বাড়তি চাপ না নিয়ে নিজের স্বাভাবিক খেলা চালিয়ে যেতে বললেন এবং আমিও সেখানে একমত হই। 

নোমান মোহাম্মদ: মন খারাপ হয়নি?

তাওহিদ হৃদয়: সত্যি বলতে আমার একদমই মন খারাপ হয়নি। তাঁর হাত দিয়েই আমার ক্যারিয়ার শুরু। এটা বিশ্বাস ছিল, স্যার অবশ্যই আমার ভালো চায়। 

নোমান মোহাম্মদ: জাতীয় দলে ডাক পাবার পরে সুজন ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে?

তাওহিদ হৃদয়: সুজন স্যারের সাথে সেভাবে কথা হয়না। সত্যি বলতে, কথা বলতে ভয় লাগে। স্যার তো এটি জানেনই এবং সবসময় দোয়া করেন আমার জন্য।  

সুজন স্যারের সাথে সেভাবে কথা হয়না, ভয় লাগে: তৌহিদ হৃদয়নোমান মোহাম্মদ: এবারের বিপিএলের আগের কথা যদি বলি, অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে ততদিনে ইমন, জয়, শরিফুল ও শামীমসহ অনেকেই জাতীয় দলে চলে এসেছেন। সে সময় কি আপনি হতাশ ছিলেন? 

তাওহিদ হৃদয়: অনেকেই এটা জিজ্ঞেস করেছেন কিন্তু কোনদিনও নিজেকে হতাশ মনে হয়নি। যদি ভালো খেলি, ভাগ্যে থাকে; অবশ্যই জাতীয় দলে সুযোগ পাব। 

নোমান মোহাম্মদ: আপনি বগুড়ার ছেলে। জাতীয় দলের অন্যতম তারকা খেলোয়াড় মুশফিকুর রহিমের বাড়িও সেখানে। তিনি কি আপনার ক্রিকেটীয় আইডল? 

তাওহিদ হৃদয়: ছোটবেলায় ক্রিকেট সম্পর্কে তেমন জ্ঞান ছিলনা। কিন্তু এটা শুনেছিলাম যে, বাড়ির পাশেই একজন জাতীয় দলে খেলেন। মুশফিক ভাইকে দেখেই আমার ক্রিকেটার হবার ইচ্ছা জাগে। ক্রিকেটের সামগ্রিক অনুপ্রেরণা তাঁর থেকেই। প্রথম যখন অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ডাক পাই, মুশফিক ভাই নিজে থেকে যোগাযোগ করেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর সাথে দেখা হয়েছে এবং একটি ব্যাট উপহার দিয়েছিলেন।

নোমান মোহাম্মদ: মুশফিকের ব্যাট তো আপনার জন্য লাকি। 

তাওহিদ হৃদয়: অবশ্যই। অনূর্ধ্ব-১৯ এ সেই ব্যাট দিয়ে ৩০ ওভারের পর ব্যাট করতে নেমে অনেক অল্প সংখ্যক বলে সেঞ্চুরি করেছিলাম। ৭টি ছক্কাও মেরেছিলাম। ব্যাটও একটি আত্মবিশ্বাসের জায়গা। 

নোমান মোহাম্মদ: জাতীয় দলে ডাক পাবার পর, দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের থেকে কিভাবে অভিবাদন পেয়েছেন? কারও অভিনন্দন আলাদাভাবে আপনাকে অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে কিনা?

মুশফিক ভাই বলেছিলেন, 'লং ওয়ে টু গো'

তাওহিদ হৃদয়: খেলা শেষেই ড্রেসিং রুমে মাশরাফি ভাই অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করে নিজের অবস্থান শক্ত যেন রাখতে পারি এবং এই অবস্থান থেকে দূরে না সরে যাই। অন্যদের সাথে যেমনটি হয়েছিল যে ৩/৪ ম্যাচ খেলেই আবার বাদ পড়েছিল এমনটি আমার সাথে না হয়। পর্যাপ্ত সুযোগ যাতে তৈরি করতে পারি। মুশফিক ভাই বলেছিলেন, 'লং ওয়ে টু গো'।

নোমান মোহাম্মদ: ক্রিকেট জগতে সবচেয়ে বড় আইডল কি মুশফিক? বিদেশি কেউ কি আছেন?

তাওহিদ হৃদয়: ছোট থেকে আমি তাঁকেই (মুশফিক) অনুসরণ করি।

নোমান মোহাম্মদ: সেই মুশফিকের সঙ্গেই জাতীয় দলে ড্রেসিং রুম শেয়ার করবেন। কতটুকু আনন্দিত?

তাওহিদ হৃদয়: এই আনন্দের কথা বলে প্রকাশ করা একদমই সম্ভব নয়। এই রকম অবস্থানে নিজেকে দেখতে পেরে আমি অনেক খুশি।

 মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে জাতীয় দলে ড্রেসিং রুম শেয়ার করার আনন্দ বলে প্রকাশ করা সম্ভব নয়: তৌহিদ হৃদয়নোমান মোহাম্মদ: আপনার মা জমি বন্ধক রেখে স্বপ্ন পূরণে তাগিদ দিয়েছিলেন। বাবা-মা এখন কী বলেন? 

তাওহিদ হৃদয়: মা-বাবা এখন অনেক খুশি। প্রতিটা ধাপে মা যেভাবে সাপোর্ট করেছেন, আমার সাফল্যের পেছনে তাঁর দোয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ছোটবেলায় আমার জ্বর হলেও মা আমার পাশে বসে থাকতো। সবার বাবা-মা সন্তানকে ভালোবাসে, তবে আমার মা আমাকে একটু অন্যরকমভাবে ভালোবাসে।

নোমান মোহাম্মদ: জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পরে বাড়ি গিয়েছিলেন। এবারের বগুড়া ভ্রমণ অন্যরকম ছিল কিনা? 

তাওহিদ হৃদয়: না, স্বাভাবিক ছিল। বরাবর যে রকম ছিল তেমনই। কিন্তু এটা অনুভব করতে পেরেছিলাম, অন্যান্য বারের চেয়ে মা অনেক বেশি খুশি ছিলেন। 

নোমান মোহাম্মদ: যে জমি বন্ধক রেখেছিলেন সেটি এখন কী অবস্থায় রয়েছে?

তাওহিদ হৃদয়: অনূর্ধ্ব-১৯ খেলা চলাকালেই সেটি পুনরুদ্ধার করেছি আমি। 

নোমান মোহাম্মদ: এখন আপনি জাতীয় দলে চলে এসেছেন। তো, জাতীয় দলে এখন আপনার লক্ষ্য কী?

তাওহিদ হৃদয়: এটি আমার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তবে আমি মনে করি ভবিষ্যতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ আসবে তাই লক্ষ্য থাকবে ভালো খেলা এবং লম্বা সময় ধরে দেশের প্রতিনিধিত্ব কর‍া।

নোমান মোহাম্মদ: টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভালো খেলে ডাক পেয়েছেন ওয়ানডেতে। এর আগে অনেক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে। পরবর্তীতে সেখানে সুবিধা করতে না পারায় সুযোগ হারিয়েছেন। আপনার কী কোন পছন্দের ফরম্যাট আছে, নাকি আপনার মনেহয় ক্রিকেট খেলতে পারেন তাই সব ফরম্যাটেই খেলতে পারবেন?

তাওহিদতৌহিদ হৃদয়: আমার তিন ফরম্যাটই পছন্দের। ‘এ’ দলের সিরিজ, এইচপি মিলিয়ে ওয়ানডেতে আগেও ভালো খেলেছি। তিন ফরম্যাটেই খেলার আত্মবিশ্বাস রাখি।

নোমান মোহাম্মদ: জাতীয় দলে নতুন কোচ এসেছেন, চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। একই সাথে আপনারও জাতীয় দলে যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। তাঁর সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে কতটা উৎফুল্ল?

তাওহিদ হৃদয়: তিনি অনেক ভালো কোচ। আমার জন্যে তিনি নতুন কোচ এবং প্রথমবার কাজ করবো উনার সাথে। চেষ্টা থাকবে যতটা সম্ভব ভালো কিছু শেখার। 

নোমান মোহাম্মদ: জাতীয় দলে কী নির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য রয়েছে? এই সংখ্যক রান, নির্দিষ্ট এই বছর খেলব কিংবা অমন কিছু? 

তাওহিদ হৃদয়: ছোট থেকেই ইচ্ছা বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় জায়গা করে নেয়া।

 

মন্তব্য করুন: