বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কামিন্স, জায়গা হয়নি স্মিথের
৩১ জানুয়ারি ২০২৬
পিঠের চোটের কারণে আসন্ন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন প্যাট কামিন্স। অন্যদিকে বিগ ব্যাশে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে ঢোকার সম্ভাবনা জাগলেও শেষ পর্যন্ত জায়গা হয়নি স্টিভ স্মিথের।
শনিবার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। গত ১ জানুয়ারি ঘোষণা করা প্রাথমিক দল থেকে দুটি পরিবর্তন এনেছে ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়নরা। দলে পরিবর্তন আনার শেষ দিনে কামিন্সের বদলে জায়গা পেয়েছেন বাঁহাতি পেসার বেন ডোয়ার্শিস। ফর্ম হারিয়ে বাদ পড়েছেন অলরাউন্ডার ম্যাথিউ শর্ট। তার জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন ম্যাট রেনশো।
গত জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর থেকে পিঠের নিচের অংশের চোটে ভুগছেন কামিন্স। গত সাড়ে ছয় মাসে কেবল একটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। সেটিও অ্যাশেজ সিরিজের অ্যাডিলেইড টেস্টে। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে এবং বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্বকাপের প্রাথমিক দল ঘোষণার সময় জানানো হয়েছিল, কামিন্সের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে অস্ট্রেলিয়া। পরে জানায় গিয়েছিল বিশ্বকাপের শুরু থেকে খেলতে না পারলেও মাঝামাঝি থেকে অভিজ্ঞ এই পেসার ম্যাচ খেলতে পারবেন। কদিন আগে তার স্ক্যান করানো হলে সেটির ফল ‘ইতিবাচক’ বলেই জানানো হয়েছিল। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এখন বলছে, সেরে উঠতে আরও সময় লাগবে তার।
গত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এই ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কোনো ম্যাচ খেলেননি কামিন্স।
তবে অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় স্বস্তির খবরও আছে। চোট কাটিয়ে ফেরার পথে থাকা অন্য তিন ক্রিকেটার জশ হ্যাজেলউড, ন্যাথান এলিস ও টিম ডেভিড ফিট হয়ে উঠেছেন।
অ্যাশেজ শেষে বিগ ব্যাশে ফিরে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন স্মিথ। সিডনি সিক্সার্সের হয়ে ৬ ইনিংসে ৫৯ দশমিক ৮০ গড় এবং ১৬৭ দশমিক ৯৭ স্ট্রাইক রেটে ২৯৯ রান করেন তিনি। একটি সেঞ্চুরির সঙ্গে হাঁকান দুটি ফিফটিও।
তবে বিগ ব্যাশে স্মিথ খেলেছেন ওপেনার হিসেবে। জাতীয় দলের হয়ে টি-টুয়েন্টিতে সবশেষ খেলেন ২০২৪ সালের মার্চে। এরপর এই ফরম্যাটে খেলা প্রতিটি ইনিংসেই ওপেনিংয়ে খেলেছেন তিনি। টি-টুয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার হিসেবে অধিনায়ক মিচেল মার্শ ও ট্র্যাভিস হেডের জায়গা পাকাপোক্ত।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকদের চাহিদা ছিল মিডল অর্ডারের জন্য বাঁহাতি একজন ব্যাটার, যিনি স্পিনে ভালো। ফলে সুযোগ মেলে রেনশোর। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে অভিষেক হয় তার। এবারের বিগ ব্যাশে ১৫৩ দশমিক ৫৫ স্ট্রাইক রেটে ৩২৪ রান করেন তিনি।
আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান। ‘বি’ গ্রুপে তাদের বাকি তিন প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা ও ওমান।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার চূড়ান্ত দল:
মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, কুপার কনোলি, টিম ডেভিড, বেন ডোয়ার্শিস, ক্যামেরন গ্রিন, ন্যাথান এলিস, জশ হ্যাজেলউড, ট্র্যাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাট কুনেমান, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাট রেনশো, মার্কাস স্টয়নিস, অ্যাডাম জ্যাম্পা।















মন্তব্য করুন: