অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে ‘মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা’
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চোটের কারণে একাধিক পরিবর্তনে অস্ট্রেলিয়ার এলোমেলো প্রস্তুতির মধ্যেও অধিনায়ক মিচেল মার্শ মনে করছেন, ‘মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা’ হবে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে তার দলের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগের দিন মঙ্গলবার মার্শ বলেন, “দেখুন, আমরা অবশ্যই ইতিবাচকভাবে খেলতে চাই। এই কন্ডিশনে পরিষ্কার পরিকল্পনা থাকা জরুরি। কীভাবে খেলব, সেটা স্পষ্ট করতে হবে এবং সামনে যা আসবে সেভাবেই খেলতে হবে।”
“পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কথাটা আমাদের টিম মিটিংয়ে বারবার এসেছে। সামনে যে পরিস্থিতিই আসুক, সেটার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কাজটা শেষ করাই লক্ষ্য।”
বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে পাকিস্তানের কাছে ৩–০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশড হওয়া থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলেন মার্শ।
“আমরা শিক্ষা নিই এবং সামনে এগিয়ে যাই। অভিজ্ঞ কয়েকজনকে আবার দলে পেয়েছি… পাকিস্তান আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। বিষয়টা সেখানেই শেষ করে দিয়েছি।”
সেই সিরিজে স্পিনের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ ভুগেছিল, যা শ্রীলঙ্কার মতো উইকেটে ঠিক করতেই হবে বলে মার্শ স্বীকার করেন।
“আমরা জানি কেমন কন্ডিশনের মুখোমুখি হব। আমার মনে হয় বেশিরভাগ দলের পরিকল্পনাও প্রায় একই রকম হবে। আমরা প্রস্তুত এবং নামার জন্য তৈরি।”
কন্ডিশনের প্রস্তুতির পাশাপাশি দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের চোটও বড় ধাক্কা। ২০১৬ সালের পর এই প্রথম কোনো বড়ো টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়া খেলছে তাদের দীর্ঘদিনের মূল তিন পেসার — মিচেল স্টার্ক (অবসর), প্যাট কামিন্স (পিঠের চোট) এবং জশ হ্যাজলউডকে (অ্যাকিলিস/হ্যামস্ট্রিং চোট) ছাড়াই। তবে তরুণদের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন মার্শ।
“প্যাটির মতো খেলোয়াড়রা ব্যস্ত সূচির কারণে অনেক ম্যাচ খেলতে পারেনি, আর গত ১২ মাসে বেনি ডোয়ারশিস ও জেভিয়ার বার্টলেট প্রায় সব ম্যাচ খেলেছে। তাই আমরা আত্মবিশ্বাসী, তারা আমাদের জন্য ভূমিকা রাখতে পারবে।”
কামিন্সের বদলি হিসেবে দলে যোগ দেওয়া ডোয়ারশিস আর বার্টলেটের সঙ্গে পেস আক্রমণে থাকবেন নাথান এলিস। পেস আক্রমণ অনভিজ্ঞ হলেও গত এক বছরে তৈরি হওয়া স্কোয়াডের গভীরতায় আস্থা আছে মার্শের।
কৌশলগতভাবে কন্ডিশন অনুযায়ী পরিবর্তনের প্রস্তুতিও আছে অস্ট্রেলিয়ার, যার মধ্যে রয়েছে দুই বিশেষজ্ঞ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা ও ম্যাথিউ কুনেম্যানকে একসঙ্গে খেলানোর সম্ভাবনা।
“গত ১২ মাসে আমরা কয়েকবার দুই স্পিনার নিয়ে খেলেছি, এবং দেখেছি ম্যাট কুনেম্যান এই পর্যায়ে খেলার যোগ্য। তাই এমন সিদ্ধান্ত নিলে আমাদের জন্য অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।”
পাকিস্তান সফরের ধাক্কার আগে অস্ট্রেলিয়া দারুণ ছন্দে ছিল। ২০২৪ বিশ্বকাপের পর ২৪টি সম্পূর্ণ টি–টুয়েন্টির মধ্যে ১৭টিতে জিতেছে তারা। স্কটল্যান্ড, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয় এসেছে। অবশ্য ২০২৫ সালের শেষদিকে ভারতের কাছে ২–১ ব্যবধানে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া।
বুধবার কলম্বোয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া















মন্তব্য করুন: