বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আশায় কামিন্স
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চোট কাটিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে মাঠের ক্রিকেটে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন প্যাট কামিন্স। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা না হওয়ায় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান তিনি। এই ফাঁকে লম্বা সময় বিশ্রাম পাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়কের লক্ষ্য, আসছে মৌসুমে লাল বলের সব ম্যাচে খেলা, যার শুরুটা হবে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ দিয়ে।
গত জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে পিঠের নিচের অংশের চোট নিয়ে ফেরা কামিন্স এই সাত মাসে খেলেছেন কেবল একটি ম্যাচ, গত ডিসেম্বরে অ্যাশেজ সিরিজের অ্যাডিলেইড টেস্টে। এই ম্যাচ দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ডানহাতি এই পেসারকে শেষ দুটি ম্যাচে বিশ্রামে রাখে টিম ম্যানেজমেন্ট। লক্ষ্য ছিল তাকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাওয়ার।
শঙ্কা থাকলেও বিশ্বকাপের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক দলে রাখা হয়েছিল কামিন্সকে। পরে বলা হয়, বিশ্বকাপের মাঝামাঝি সময় থেকে খেলতে পারবেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে যান ৩২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
অস্ট্রেলিয়ার বার্তা সংস্থা এএপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কামিন্স জানান, শেষ মুহূর্তে সামান্য চোটের বাধায় বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায় তার।
“এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক ছিল। আমি বেশ ভালো অনুভব করছিলাম। কিন্তু সামান্য বাধার পর সময় আর বেশি ছিল না। এখন কয়েক সপ্তাহ বিশ্রাম নিয়ে এরপর আবার শুরু করব।”
"(অ্যাডিলেইড) টেস্টের পরই জানতাম যে, হাঁড়ের থিতু হতে চার থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর মাঠে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু। প্রাথমিকভাবে আমরা ভেবেছিলাম, চার সপ্তাহের মতোই লাগবে, কারণ কারণ বেশ ভালো বোধ করছিলাম। কিন্তু ফলো-আপ স্ক্যান করানোর পর তাদের মনে হয়েছে, আরও সপ্তাহ দুয়েক সময় লাগবে। তাতে ফেরার সময়টা অনেক কঠিন হয়ে গেল।”
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর লম্বা বিরতি পাবে অস্ট্রেলিয়া দল। নতুন মৌসুম শুরু হবে আগস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে। ডারউইন ও ম্যাকাইতে হবে ম্যাচ দুটি। এরপর তারা সেপ্টেম্বরে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট সিরিজে। দেশে ফিরে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ আছে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে।
২০২৭ সালের শুরুতে পাঁচ টেস্টের সিরিজ আছে ভারতে। টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছর পূর্তিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশেষ টেস্ট খেলবে মেলবোর্নে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে পারলে আছে সেই ম্যাচটিও। সঙ্গে আছে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপও।
সব মিলিয়ে আগস্ট থেকে শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ার ১৮ মাসের ব্যস্ত অধ্যায়। এই চ্যালেঞ্জের জন্য এই ফাঁকা সময়টায় নিজের শরীরকে আরও পোক্ত করতে চান ক্যারিয়ারের লম্বা সময় পিঠে চোটে ভোগা কামিন্স।
“আমাদের মনে হয়েছে, বছরের প্রথম ছয় মাস বেশ ভালো সময় একটু সতর্ক হয়ে এগোনোর, বিশেষ করে সামনে যে পরিমাণ খেলা আছে। যদি সবকিছু ঠিকঠাক এগোয়, তাহলে আশা করি আর এটা (চোট) নিয়ে চিন্তায় পড়তে হবে না। সবকটি টেস্ট ম্যাচই খেলা যাবে। অন্যদিকে এখন সতর্ক না হলে এটা আরও বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত পরিশ্রম পণ্ড হতে পারে।”
সব ঠিকঠাক থাকলে আইপিএল দিয়েই মাঠে ফিরতে পারেন কামিন্স। তবে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক জানান, আইপিএলে খেলা নির্ভর করবে আরেকটি স্ক্যানের পর চোটের অবস্থার দেখে।















মন্তব্য করুন: