আফগানিস্তানের হৃদয়ভাঙা হার, ২য় সুপার ওভারে গড়ানো ম্যাচ জিতল দ. আফ্রিকা
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্ধারিত সময়ে দুই দলই করল ১৮৭। প্রথম সুপার ওভারে দুই দলেরই স্কোর ১৭। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সুপার ওভারে ৪ রানে জিতে আফগানিস্তানের হৃদয় ভেঙে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
বুধবার আহমেদাবাদে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় এই ম্যাচে শুধু দুটি সুপার ওভারের রোমাঞ্চ নয়, ছিল আরও নাটকীয় সব মুহূর্ত। নির্ধারিত সময়ের শেষ ওভার শুরুর সময় আফগানিস্তানের দরকার ছিল ১৩ রান, হাতে এক উইকেট। কাগিসো রাবাদা দুইটি নো–বল করলেও আফগান ব্যাটাররা দৌড়ানোয় গড়বড় করায় ম্যাচ টাই হয়।
প্রথম সুপার ওভারে প্রায় জিতেই গিয়েছিল আফগানিস্তান। কিন্তু ট্রিস্টান স্টাবস শেষ বলে ছক্কা মেরে ম্যাচকে দ্বিতীয় সুপার ওভারে নিয়ে যান।
দ্বিতীয় সুপার ওভারে একসময় আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল চার বলে চারটি ছক্কা। রহমানউল্লাহ গুরবাজ প্রথম তিন বলে তিনটি ছক্কা হাঁকান। শেষ বলে ম্যাচ তৃতীয় সুপার ওভারে নিতে দরকার ছিল একটি চার। কিন্তু সরাসরি পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন গুরবাজ। বলটি দুই মিটার এদিক–ওদিক হলে টাই হতে পারত এই সুপার ওভারও।
পুরুষদের টি–টুয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একাধিক সুপার ওভারে নিষ্পত্তি হওয়ার ঘটনা এটি তৃতীয়বার। এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ভারত দুই সুপার ওভারে আফগানিস্তানকে হারায়, আর গত জুনে নেদারল্যান্ডস তিন সুপার ওভারে নেপালকে হারায়।
আফগানিস্তান অধিনায়ক রশিদের সিদ্ধান্তে আগে ব্যাট করতে নেমে কুইন্টন ডি কক ৩৪ বলে ও রায়ান রিকেলটন ২৩ বলে ফিফটি করেন।
একই ওভারে রশিদ ডি কক (৪১ বলে ৫৯) ও রিকেলটনকে (২৮ বলে ৬১) ফেরালেও, এর আগে তারা দ্বিতীয় উইকেটে ১১৪ রানের জুটি গড়ে বড়ো স্কোরের ভিত গড়েন। দক্ষিণ আফ্রিকা করে ৬ উইকেটে তোলে ১৮৭।
১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় আফগানিস্তান ৪ ওভারে তোলে ৫০ রান। তবে পঞ্চম ওভারে লুঙ্গি এনগিডি ইব্রাহিম জাদরান ও গুলবাদিন নাইবকে ফিরিয়ে গতি থামান।
ধাক্কা সামলেও গুরবাজ ২৬ বলে ফিফটি করেন। ৪২ বলে ৮৪ করে তিনি আউট হওয়ার সময় আফগানিস্তানের দরকার ছিল ৪৫ বলে ৬৭ রান।
আজমতুল্লাহ ওমরজাই ও রশিদ খানের যথাক্রমে ২২ ও ২০ রানের ঝড়ো ইনিংস আফগানিস্তানকে লড়াইয়ে রাখে। আর নূর আহমদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে (৯ বলে ১৫) আফগানিস্তান জয় দেখছিল। ৩ বলে দরকার ছিল ২ রান। কিন্তু চতুর্থ বলেই দুই রান নিতে গিয়ে ফজলহক ফারুকি রানআউট হন, ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।
প্রথম সুপার ওভারে আজমতুল্লাহর ব্যাটিংয়ে আবারও জয়ের সুবাস পাওয়া আফগানিস্তান হতাশ হয় শেষ বলে স্টাবসের ছক্কায়। দ্বিতীয় সুপার ওভারের প্রথম বলে স্টাবসের ছক্কার পর, চার বলে দুই ছক্কায় ১৬ রান করা ডেভিড মিলারের কল্যাণে দক্ষিণ আফ্রিকা কোনো উইকেট না হারিয়ে তোলে ২৩। জবাবে কেশব মহারাজের করা ওভারের প্রথম দুই বলে নবীর উইকেট হারিয়ে কোনো রান করতে পারেনি আফগানিস্তান। গুরবাজ পরের তিন বলে তিন ছক্কা মারেন। পরের বলটা ওয়াইড হওয়ায় জিততে ৫ রানের আর তৃতীয় সুপার ওভারে নিতে ৪ রানের দরকার ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারলেন না গুরবাজ।
টানা দুই ম্যাচ জেতা দক্ষিণ আফ্রিকার পরের ম্যাচ শনিবার একই ভেন্যুতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে, আর আফগানিস্তান সোমবার দিল্লিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে।
টানা দুই হারে আফগানিস্তানের সুপার এইটে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে গেল।















মন্তব্য করুন: