জাহানারার আনা যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পেসার জাহানারা আলমের আনা চারটি অভিযোগের মধ্যে দুইটির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে স্বাধীন তদন্ত কমিটি।
বুধবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর আগে গত সোমবার বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের হাতে কমিটি গঠনের প্রায় তিন মাস পর তদন্ত প্রতিবেদন তুলে দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্ত কমিটি জাহানারার আনা চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে অনুপযুক্ত আচরণের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। তার আচরণকে পেশাদার মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিহিত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী যা অসদাচরণ এবং হয়রানির সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে। বাকি দুটি অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি।
বিবৃতিতে জানানো হয়, কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বিসিবির আইনি দলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ২০০৯ সালের হাইকোর্টে রায় অনুযায়ী, বিসিবি একটি ‘অভিযোগ কমিটি’ গঠন করেছে। এর প্রধান করা হয়েছে বিসিবি পরিচালক এবং নারী উইং কমিটির চেয়ারপার্সন রুবাবা দৌলাকে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং বাধ্যতামূলক সচেতনতা প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করার দায়িত্ব কমিটিকে দেওয়া হয়েছে।
গত ৪ নভেম্বর দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন জাহানারা। তবে কোনো তদন্ত ছাড়াই সে দিন বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয় বিসিবি।
এর দুই দিন পর আরেক সাক্ষাৎকারে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির আরও বিস্তারিত অভিযোগ তোলেন জাহানারা। দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে ৬ নভেম্বর রাতেই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয় দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তারিক উল হাকিমকে। অন্য দুই সদস্য বিসিবির একমাত্র নারী পরিচালক রুবাবা দৌলা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। সে সময় ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
কিন্তু পরে তিন দফা সময় বাড়ানো হয়। এছাড়া তদন্ত কমিটি গঠন নিয়েও নানা সমালোচনার পর সদস্য সংখ্যা আরও দুই জন বাড়ানো হয়। যোগ করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান বাংলাদেশ আইন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. নাইমা হক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খানকে।















মন্তব্য করুন: