বিজয়-মোসাদ্দেকদের বিপিএল নিলামে না রাখার ব্যাখ্যায় যা বলল বিসিবি

২৯ নভেম্বর ২০২৫

বিজয়-মোসাদ্দেকদের বিপিএল নিলামে না রাখার ব্যাখ্যায় যা বলল বিসিবি

আসন্ন বিপিএলের নিলামের স্থানীয় ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা হয়নি এনামুল হক বিজয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতসহ একাধিক ক্রিকেটারের। দেশের ক্রিকেটের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তাদেরকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে টুর্নামেন্টের গভর্নিং কাউন্সিল।

শনিবার বিপিএলের ১২তম আসরের নিলামের জন্য স্থানীয় বিদেশি ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে বিসিবি। এবারের আসরকে সুরক্ষিত রাখতে অ্যালেক্স মার্শারের নেতৃত্বাধীন বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের পরামর্শে স্থানীয় সাত ক্রিকেটারকে ছাড়াই এই তালিকা দেওয়া হয়।

দুর্নীতির সব অভিযোগকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নেয় বিসিবি। বিপিএলের ১২তম আসরকে সুরক্ষিত রাখতে ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান গভর্নিং কাউন্সিলকে কিছু পরামর্শ দেয়। সেই পরামর্শের ভিত্তিতেই কিছু খেলোয়াড়কে এবারের বিপিএলে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদ পড়া স্থানীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন বিজয়, মোসাদ্দেক ও শফিউল ইসলামের মতো জাতীয় দলের হয়ে খেলা ক্রিকেটাররা।

গত বিপিএলে তাদের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ আছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এবং বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন থাকায় বিজ্ঞপ্তিতে কারোর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

বিপিএলের সবশেষ আসরে ফিক্সিংয়ের তদন্তে একটি স্বাধীন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে সেই কমিটির প্রতিবেদন হাতে পান বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান বলেন,প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাউকে দোষী বলতে পারি না। কিন্তু যেহেতু রেড ফ্ল্যাগআপনারা জানেন আমরা (নৈতিকতার দিক থেকে) জিরো টলারেন্সে যাচ্ছি, সে জন্যই এসব খেলোয়াড় নিলামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি আরও জানায়, এই সিদ্ধান্ত শুধু বিপিএলের জন্য প্রযোজ্য। ঘরোয়া লিগে খেলতে কোনো বাধা নেই তাদের।

নিলাম থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটারদের অভিযোগ, প্রমাণ ছাড়াই তাদের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই অভিযোগ নিয়ে ইফতেখার রহমান বলেন, “খেলোয়াড়দের কথা হচ্ছে প্রমাণ ছাড়া করেছেন, কারেক্ট। কিন্তু একজন সাবেক বিচারকের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি হয়েছে। আমি মনে করি না উনারা এমন প্রতিবেদন দেবেন, যার কোনো ভিত্তি থাকবে না। তারা মাস ধরে ৬০ জনের ওপরে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দিয়েছেন। তারা একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।

আমরা বলে দিচ্ছি না (অভিযুক্তরা) তারা দোষী। প্রতিবেদনটা আমরা আবার আমাদের ইন্টিগ্রিটি ইউনিটকে দিয়েছি, অ্যালেক্স মার্শারের মতো অভিজ্ঞ লোক কাজ করেছে। আমি সন্দেহ করছি বা যারা রেড ফ্ল্যাগ হচ্ছে তাদের নিয়ে উপায়টা কী বলেন? আমি যদি তাদের খেলতেও দিই তাহলেও ব্যাড সিগন্যাল যাচ্ছে। সুতরাং আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের যে জুরিসডিকশন আছে, তাতে আমি চাইলে একজন খেলোয়াড়কে নিলামে নাও নিতে পারি। সেটা ভিন্ন কারণেও হতে পারে। তাই আমরা নিইনি।

মন্তব্য করুন: