বৃথা গেল কোহলির সেঞ্চুরি, ভারতের মাটিতে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জিতল নিউ জিল্যান্ড
১৮ জানুয়ারি ২০২৬
ড্যারিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপসের সেঞ্চুরিতে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বড় সংগ্রহ গড়েছিল নিউ জিল্যান্ড। বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় বিরাট কোহলি ছাড়া সুবিধা করতে পারেনি ভারতের বিশেষজ্ঞ ব্যাটারদের কেউই। এতেই ইতিহাস গড়েছে কিউইরা। ৪১ রানের জয়ে ভারতের বিপক্ষে তাদের মাটিতে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে তারা।
রোববার ইন্দোরে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ৩৩৭ রান তোলে নিউ জিল্যান্ড। জবাবে কোহলির সেঞ্চুরির পর ৪ ওভার আগে ২৯৬ রানে অলআউট হয় ভারত।
প্রথম ম্যাচ হারের পর টানা দুই ম্যাচ জিতে সফরকারীরা সিরিজ নিজেদের করে নেয় ২-১ ব্যবধানে।
১৯৮৮ সালে প্রথমবার ভারতের মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথমবার দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেলে নিউ জিল্যান্ড। সেই থেকে টানা সাতটি সিরিজের সবকটিতেই হেরেছিল তারা। ২০২৩ সালের সবশেষ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হয়েছিল কিউইরা।
ভারতের মাটিতে দলটির ঐতিহাসিক এই সিরিজ জয়ের নায়ক মিচেল। গত ম্যাচেও সেঞ্চুরি হাঁকানো ডানহাতি এই ব্যাটার এদিন করেন ১৩৭ রান। জেতেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। এছাড়া তিন ম্যাচে ৩৫২ রান করে জিতেছেন সিরিজ সেরার পুরস্কারও।
ব্যাটিংয়ে নেমে নিউ জিল্যান্ডের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। প্রথম দুই ওভারেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার হেনরি নিকোলস ও ডেভন কনওয়ে। ১৩তম ওভারে দলীয় ৫৮ রানে সাজঘরের পথ দেখেন উইল ইয়ং (৩০)। এরপর দলের হাল ধরে চতুর্থ উইকেটে দুইশ রানের জুটি গড়েন মিচেল ও ফিলিপস।
১০৬ বলে ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মিচেল। ফিলিপস তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ৮৩ বলে। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে ১০৬ রান করা ডানহাতি এই ব্যাটারকে ফিরিয়ে ২১৯ রানের জুটি ভাঙেন আর্শদীপ সিং। পরের ওভারে মিচেলকে ফেরান মোহাম্মদ সিরাজ। শেষ দিকে অধিনায়ক মাইকেল ব্রেসওয়েলের ঝড়ো ২৮ রানের অপরাজিত ইনিংসে বড় সংগ্রহ পায় কিউইরা।
লক্ষ্য তাড়ায় আগ্রাসীয় শুরু পেলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ভারত। চতুর্থ ওভারে রোহিত শর্মার (১১) বিদায়ে ভাঙে ২৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। অধিনায়ক শুভমান গিল ফেরেন ২৩ রান করে। প্রথম পাওয়ারপ্লে শেষে শ্রেয়াস আইয়ার (৩) ও লোকেশ রাহুল (১) সাজঘরের পথ দেখেন পরপর দুই ওভারে।
৭১ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর নিতিশ কুমার রেড্ডিকে নিয়ে চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন কোহলি। ৫৩ রান করা নিতিশের বিদায়ে ভাঙে ৮৮ রানের এই জুটি। রবীন্দ্র জাদেজাও (১২) ফেরেন দ্রুতই।
সপ্তম উইকেটে হার্শিত রানাকে নিয়ে পাল্টা আক্রমণে দ্রুত রান তুলতে থাকেন কোহলি। ডানহাতি এই ব্যাটার তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫৪তম সেঞ্চুরি তুলে নেন ৯১ বলে। অপর প্রান্তে ঝড় তোলা হার্শিত ফিফটি তুলে নেন ৪১ বলে। ৫২ রান করা এই ব্যাটারের বিদায়ের পর দ্রুত শেষ হয় ভারতের ইনিংস। নবম ব্যাটার হিসেবে কোহলি আউট হন ১২৪ রান করে।
৩টি করে উইকেট নেন জ্যাক ফোকস ও ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক।















মন্তব্য করুন: