নিসাঙ্কার সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে সুপার এইটে শ্রীলঙ্কা
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মিচেল মার্শ ও ট্র্যাভিস হেডের বিধ্বংসী শুরুর পরও বাকি ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বিশাল সংগ্রহ গড়তে না পারলেও লড়াকু লক্ষ্য দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু পাথুম নিসাঙ্কার ব্যাটে সেটিই যেন মামুলি হয়ে উঠল শ্রীলঙ্কার জন্য। এই ওপেনারের দুর্দান্ত শতকে ৮ উইকেটের রেকর্ড গড়া জয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজকরা।
সোমবার পাল্লেকেলেতে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে ১৮১ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ২ ওভার হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছায় শ্রীলঙ্কা। টি-টুয়েন্টিতে এবারই প্রথম ঘরের মাঠে ১৮০ বা তার বেশি রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় পেল তারা।
এবারের বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকানো নিসাঙ্কা অপরাজিত থাকেন ১০০ রানে। ডানহাতি এই ব্যাটার তার ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়া ৫২ বলের ইনিংসটি সাজান ১০ চার ও ৫ ছক্কায়।
টানা তৃতীয় জয়ে ‘বি’ গ্রুপের প্রথম দল হিসেবে সুপার এইটে পা রাখল শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় হারে সুপার এইটের পথ বেশ কঠিন হয়ে গেল অস্ট্রেলিয়ার জন্য। মঙ্গলবার গ্রুপের অন্য ম্যাচে জিম্বাবুয়ে আয়ারল্যান্ডকে হারালেই গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিতে হবে ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়নদের। আর এক আসর পর বিশ্বকাপ খেলতে এসে টানা তিন জয়ে সুপার এইটে পা রাখবে জিম্বাবুয়ে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়াকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন মার্শ ও হেড। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে এই দুই ওপেনার দলের খাতায় শতরান যোগ করেন ৫০ বলেই। কিন্তু এর পরের বলে ৫৬ রান হেডের বিদায়ে ১০৪ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতেই ধসে পড়ে পুরো ব্যাটিং অর্ডার। বাকি ৭৭ রান যোগ করতে তারা হারায় শেষ ৯ উইকেট।
চোট কাটিয়ে দলে ফেরা অধিনায়ক মার্শ ফেরেন ৫৪ রান করে। মাঝে জশ ইংলিসের ২৭ এবং গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ২২ রান ছাড়া আর কেউই ৭ রানের বেশি করতে পারেননি। প্রথম ১০ ওভারে ১১০ রান তোলা অস্ট্রেলিয়া শেষ ১০ ওভারে তুলতে পারে কেবল ৭১ রান। শেষ ২ ওভারে ৬ রান তুলতেই তারা হারায় শেষ ৪ উইকেট।
লক্ষ্য তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারে কুশল পেরেরাকে হারিয়ে চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। তবে দ্বিতীয় উইকেটে নিসাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিসের পাল্টা আক্রমণে দলকে জয়ের ভিত গড়ে দেন। টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় ফিফটি হাঁকানো কুশলকে (৫১) ফিরিয়ে ৯৭ রানের এই জুটি ভেঙে অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন মার্কাস স্টয়নিস। কিন্তু বাকি বোলারদের ধারহীন বোলিংয়ে তা আর কাজে লাগেনি।
৩২ বলে ফিফটি হাঁকানো এই ব্যাটার পরের ২০ বলে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তৃতীয় উইকেটে পবন রত্নায়েকের সঙ্গে গড়েন ৩৪ বলে ৭৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। রত্নায়েকে অপরাজিত থাকেন ১৫ বলে ২৮ রানে।















মন্তব্য করুন: