‘ব্যক্তি আগে না দল আগে’ প্রশ্ন সাকিবের

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

‘ব্যক্তি আগে না দল আগে’ প্রশ্ন সাকিবের

যে প্রস্তাব মেনে না নেওয়ায় বিশ্বকাপে নেই তামিম ইকবাল, সেই প্রস্তাব দেওয়াকে ভুল মনে করছেন না বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের মতে, ব্যক্তির চেয়ে দল আগে। আর দাবি করলেন, তামিমকে বিশ্বকাপ দলে না রাখার বিষয়ে তার কোনো ভূমিকা নেই।

বুধবার বিকেলে দল ভারতের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার পর দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল এক ভিডিও বার্তায় তার দলে না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, তাকে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটি না খেলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এতে রাজি না হলে তাকে ওই ম্যাচে নীচে নেমে ব্যাট করতে বলা হয়েছিল। এই প্রস্তাবেও রাজি হননি সব সময় ওপেনিংয়ে খেলা তামিম। প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে প্রয়োজনে বিশ্বকাপ দলে তাকে না রাখতে বলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তামিমকে বাদ দিয়েই নির্বাচকরা মঙ্গলবার ঘোষণা করে বিশ্বকাপ দল।

বুধবার রাতে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে তামিমকে ওপেনিং ছেড়ে নীচে নেমে ব্যাটিংয়ের এই প্রস্তাবের বিষয় নিয়ে সাকিবের কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, “ইন্ডিভিজুয়াল আগে নাকি দল আগে?”

সাকিবের মতে, তামিমকে যদি এ রকম কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়েও থাকে তাহলে এখানে ভুল কিছু তো হয়নি। টিম কম্বিনেশনের কথা চিন্তা করে একজন খেলোয়াড়কে আগে থেকেই জানিয়ে রেখে এ রকম আলোচনা করে রাখলে এতে দোষের কিছু নেই।

“দলের প্রয়োজনে যে কেউ যে কোনো জায়গায় খেলতে রাজি থাকা উচিত। এটা টিম ফার্স্ট। আপনি নিজের হয়ে ১০০ করলেন ২০০ করলেন এতে কোনো কিছু যায় আসে না যদি আপনার দল না জেতে।”

ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মার উদাহরণ টেনে সাকিব বলেন, “রোহিত শর্মা একটা প্লেয়ার নাম্বার সেভেন থেকে ওপেনিংয়ে এসে সে ১০ হাজার রান করে ফেলেছে। ও যদি মাঝেমাঝে তিন-চারে খেলে বা ব্যাটিংয়ে না নামে তাহলে কী খুব বেশি প্রবলেম হয়? এটা আসলে আমার কাছে মনে হয় বাচ্চা মানুষের মতো… আমার ব্যাট আমিই খেলব… আর কেউ খেলতে পারবে না।”

তামিমকে বিশ্বকাপে না নেওয়ার পেছনে তার ভূমিকা আছে কিনা প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, “প্রথম কথা হচ্ছে আমি অন্তত যখন থেকে অনূর্ধ্ব-১৫ খেলা শুরু করেছি, আমি দেখে আসছি যে, যে প্লেয়ারটা দলের জন্য ভালো করছে, কন্ট্রিবিউট করেছে ওই প্লেয়ারকে বাংলাদেশ দল থেকে কখনোই বাদ দেওয়া হয়নি।”

“আমার তো দায়িত্ব না পুরা টিমটা সিলেক্ট করা। এটা যদি হতো তাহলে এশিয়া কাপের একদিন আগে ক্যাপ্টেন অ্যানাউন্স করে টিম দিয়ে দিতে পারত না।” 

সাকিব দাবি করেন, তামিমকে দল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে তার সঙ্গে কেউ কোনো কথা বলেনি।

অধিনায়কত্ব পাওয়া নিয়ে সাকিবের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “যে পরিস্থিতিতে আমি ক্যাপ্টেনসি নিয়েছি সবচেয়ে ভালো ছিল আমার জন্য না নেওয়া।” 

অধিনায়ক হবার আগে বোর্ডকে তিনি কোনো শর্তও দেননি বলে দাবি করেন সাকিব। 

সাকিব জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হোসেন পাপনকে বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিতে চান না বলে জানিয়েছিলেন তিনি। আর বিশ্বকাপের পরেই তিনি অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিবেন।

মন্তব্য করুন: