পাওয়ার হিটিংয়ে নতুন অধ্যায়ের খোঁজে বাংলাদেশ
৩০ আগস্ট ২০২৫

টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট মানেই যেন চার-ছক্কার ঝনঝনানি। ধুমধারাক্কা ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখাই যেন থাকে দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য। অন্যান্য দেশগুলো যেখানে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মনোযোগী, সেখানে আগে ক্রিজে থিতু হওয়াতেই যেন চোখ বাংলাদেশের। ফলে দ্রুত রান তোলার দিক দিয়ে বেশ পিছিয়েই আছেন লিটন দাসের দল। এ সমস্যা সমাধানে স্বল্প মেয়াদী চুক্তিতে প্রথমবারের মতো পাওয়ার হিটিং কোচও নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি।
আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে টি-টুয়েন্টিতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের অবস্থা কতটা শোচনীয়, তা স্পষ্ট হয় সাম্প্রতিক সময়ে তাদের স্ট্রাইক রেটের দিকে তাকালে। ২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে ১৮ ম্যাচ খেলা বাংলাদেশ রান তুলেছে ১২৫ দশমিক ২৮ স্ট্রাইক রেটে। ১২টি পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তাদের অবস্থান ১০ নম্বরে।
এই সময়টায় পূর্ণ সদস্য দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫৮ দশমিক ৯৮ স্ট্রাইক রেটে রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। এশিয়ার বাইরের দেশগুলোর মধ্যে এই তালিকায় পরের অবস্থানে আছে ইংল্যান্ড (১৪৭ দশমিক ৬৫) ও নিউ জিল্যান্ড (১৪০ দশমিক ৬৯)।
এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে এই তালিকায় বাংলাদেশের ওপরে থাকা ভারতের স্ট্রাইক রেট ১৫৫ দশমিক ৮৩, পাকিস্তানের ১২৮ দশমিক ৮২।
আগামী বছর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দলের এই অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে সম্প্রতি ২৮ দিনের চুক্তিতে ইংল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ পাওয়ার হিটিং কোচ জুলিয়ান উডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী বুধবার তার এই মেয়াদ শেষ হবে। তার কাছ থেকে পাওয়া দীক্ষায় রাতারাতি দলের ব্যাটিং বদলে যাবে না এটা মানছেন ক্রিকেটাররাও।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এবারের এশিয়া কাপের আসরটি হবে টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে এবারের আসর। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে বাংলাদেশ। আর এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের আসরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলছে টাইগাররা। ফলে উডের কাছ থেকে শেখা কৌশলে ক্রিকেটাররা কতটা কাজে লাগাতে পারছেন তা দেখা যাবে ডাচদের বিপক্ষে সিরিজেই।
এশিয়া কাপের দলের ডাক পাওয়া ব্যাটারদের মধ্যে টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১৩০ বা এর বেশি স্ট্রাইক রেট আছে কেবল একজনের। ১৭ ইনিংসে ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ১৩৮ দশমিক ৬৬ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ৩৭৩।
তবে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে ১৩০ বা এর বেশি স্ট্রাইক রেটে রান তুলেছেন দলে থাকা চার ব্যাটার। এখানেও সবার আগে আছেন ইমনই। ১৪ ইনিংসে ১৫৬ দশমিক ০৬ স্ট্রাইক রেটে বাঁহাতি এই ব্যাটার ৩৪৮ রান করেছেন। ছক্কা হাঁকিয়েছেন ২৩টি। পরের স্থানে থাকা শামীম হোসেন পাটোয়ারীর স্ট্রাইক রেট ১৫৩ দশমিক ৫৭, ছক্কা ৯টি। ২২টি ছক্কা হাঁকানো আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের স্ট্রাইক রেট ১৪১ দশমিক ৩২। সবচেয়ে বেশি ২৫ ছক্কা হাঁকানো জাকের আলীর স্ট্রাইক রেট ১৩৪ দশমিক ৭১।
সব মিলিয়ে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের আসরে দ্রুত রান তোলার জন্য দল হয়তো এই চারজনের দিকেই তাকিয়ে থাকবে।
[প্রতিবেদনে ৩০ জুন, ২০২৪ থেকে ২৯ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।]
মন্তব্য করুন: