লিটনের ফিফটিতে রেকর্ড গড়ে সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ

২৯ নভেম্বর ২০২৫

লিটনের ফিফটিতে রেকর্ড গড়ে সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ

শেখ মাহেদির নৈপুণ্যে উড়ন্ত সূচনার পরও আয়ারল্যান্ডকে খুব বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি বাংলাদেশ। এরপর লিটন দাসের ফিফটিতে সহজ জয়ের পথে ছিল তারা। তবে অধিনায়কের বিদায়ের পর দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু সাইফউদ্দিনের দৃঢ়তায় দেশের মাটিতে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে ৪ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে সমতায় ফিরেছে টাইগাররা।

শনিবার চট্টগ্রামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেটে ১৭০ রান তোলে আইরিশরা। জবাবে ২ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌছায় লিটনের দল।

টি-টুয়েন্টিতে দেশের মাটিতে এতদিন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ডটি ছিল ১৬৬ রানের। গত বছর মার্চে সিলেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তখনকার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর অপরাজিত ফিফটিতে ৮ উইকেটের জয় পেয়েছিল স্বাগতিকরা।

সব মিলিয়ে দেশের মাটিতে দেড়শর ওপরে রান তাড়ায় এটি বাংলাদেশের পঞ্চম জয়।

৩৭ বলে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৫৭ রান করেন লিটন। ৭ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন সাইফউদ্দিন।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা একদমই ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। তৃতীয় ওভারে পারভেজ হোসেন ইমনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে তানজিদ হাসান তামিম (৭) রানআউট হলে ভাঙে ২৬ রানের উদ্বোধনী জুটি।

ইমনকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৬০ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় আর বাড়তে দেননি লিটন। ২৮ বলে ৪৩ রান করা ইমনের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। রানের খাতা খোলার আগেই একাদশ ওভারের তৃতীয় বলে জীবন পান সাইফ হাসান। পরের বলেই জীবন পান। ডানহাতি এই ব্যাটারের ক্যাচ বাউন্ডারি লাইনে দারুণভাবে তালুবন্দি করেন গ্যারেথ ডেলানি। কিন্তু বল হাতে থাকার সময় তার ট্রাউজারের পেছনে থাকা তোয়ালেটি সে সময়ে সীমানা দড়ি ছুঁয়ে ছিল। সে সময় ২৭ রানে ছিলেন লিটন।

জীবন পাওয়ার পর ৩৪ বলে ক্যারিয়ারের ১৬তম ফিফটি পূর্ণ করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এর তিন বল পর তার বিদায়ে ভাঙে তৃতীয় উইকেটে ৫২ রানের জুটিটি। এরপরই খেই হারিয়ে ফেলে ব্যাটাররা। পরের ১৯ রান যোগ করতে সাইফ (২২), তাওহিদ হৃদয় (৬) ও নুরুল হাসান সোহানের উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তবে শেষ পর্যন্ত সাইফউদ্দিনের নৈপুণ্যে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পল স্টার্লিং ও টিম টেক্টরের তাণ্ডবে এদিনও শুরুটা দুর্দান্ত করে আইরিশরা। তবে তানজিম হাসান সাকিবের করা চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে সাইফের দুর্দান্ত ক্যাচে অধিনায়ক স্টার্লিং (২৯) ফিরলে ভাঙে ৫৭ রানের জুটি।

নবম ওভারে দুই টেক্টর ভাইকে তুলে নিয়ে সফরকারীদের রানের লাগাম পুরোপুরি টেনে ধরার শুরুটা করেন মাহেদি। প্রথম বলে টিমকে (৩৮) স্টাম্পিং করানোর পর পঞ্চম বলে হ্যারি টেক্টরকে (১১) বোল্ড করেন এই অফ স্পিনার। এক ওভার পর বেন কালিজকেও (৭) স্টাম্পিং করান তিনি।

পঞ্চম উইকেটে লরকান টেক্টর ও জর্জ ডকরেলের অর্ধশত রানের জুটিতে চাপ সামাল দেয় আয়ারল্যান্ড। তবে এক্ষেত্রে অবদান আছে লিটনেরও। রান নেওয়ার সময় লাইনের ভেতরে ঢোকার আগেই ব্যাট হাত থেকে ফসকে যায় ডকরেলের। কিন্তু বল দিয়ে স্টাম্প ভাঙার আগে গ্লাভস দিয়ে তা ভাঙেন লিটন। সে সময় দলের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১০৯ রান। ডকরেলকে ফিরিয়ে ৪৪ বলে ৫৬ রানের জুটি ভাঙেন সাইফউদ্দিন। ইনিংসের শেষ বলে রানআউট হন সর্বোচ্চ ৪১ রান করা টাকার।

পাওয়ারপ্লেতে ১ উইকেটে ৭৫ রান তোলা আইরিশরা পরের ১৪ ওভারে তুলতে পারে ৯৫ রান। ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন মাহেদি।

[বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে সংযোজন করা হয়েছে।]

মন্তব্য করুন: