আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন খাজা
২ জানুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন উসমান খাজা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্ট দিয়ে জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখবেন অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি ব্যাটার।
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবসরের বিষয়টি জানান খাজা। আগামী রোববার সিডনিতে শুরু হতে যাওয়া অ্যাশেজ সিরিজের শেষ ম্যাচটি হবে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের শেষ ম্যাচ।
২০১০-১১ অ্যাশেজ সিরিজে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডেই টেস্ট অভিষেক হয় খাজার। ৮৭ টেস্টে ১৫৭ ইনিংসে তার রান ৬ হাজার ২০৬, গড় ৪৩ দশমিক ৩৯। সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ১৬টি। গত বছর শ্রীলঙ্কা সফরে ক্যারিয়ারে ২৩২ রানের ইনিংসটি।
পিঠের চোটের কারণে চলতি অ্যাশেজে ট্র্যাভিস হেডের কাছে ওপেনিংয়ে জায়গা হারানোর পর থেকেই খাজার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে অ্যাডিলেইডে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে স্টিভ স্মিথের অসুস্থতার কারণে আবারও একাদশে জায়গা পান তিনি। সুযোগ পেয়ে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৮২ ও ৪০ রান করে দলের অ্যাশেজ নিশ্চিতে অবদান রাখেন তিনি।
তবে কেবল রানের জন্য নয়, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে বৈচিত্র্যের প্রতীক হিসেবেও খাজা সবসময় আলোচনায় ছিলেন। পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া এই ক্রিকেটার পাঁচ বছর বয়সে সিডনিতে আসেন এবং অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে খাজা বলেন, “আমি আশা করছি, আমার পথচলায় অনেক শিশুকে অনুপ্রাণিত করেছি। বিশেষ করে তাদের যারা মনে করে যে তারা আলাদা, যারা মনে করে যে তারা (দলের) অংশ নয়, অথবা অন্যদের কথায় যারা মনে করে যে তারা কখনই সফল হতে পারবে না।
“বড় হওয়ার সময় এবং অস্ট্রেলিয়ার একজন ক্রিকেটার হওয়ার চেষ্টা করার সময় আমি এই সব কিছুই অনুভব করেছি। কিন্তু দেখা মানেই বিশ্বাস করা। আর আমি এখানে আপনাকে বলতে এসেছি যে আপনি যা চান তা-ই করতে পারেন। শুধু চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।”
“আমি পাকিস্তান থেকে আসা একজন গর্বিত মুসলিম ছেলেো যাকে বলা হয়েছিল যে সে কখনোই অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের হয়ে খেলতে পারবে না। এখন আমার দিকে তাকান। আপনারাও একই কাজ করতে পারেন।”
সিডনিতে অভিষেকের পর ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলতে যাওয়া খাজার ক্যারিয়ারের পুনরূত্থানও হয়েছিল এই মাঠে। ২০২১-২২ অ্যাশেজে সিডনি টেস্টের আগে হেড করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় দলে ডাক পান তিনি। দুই বছর পর জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট খেলতে নেমে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি হাঁকান বাঁহাতি এই ব্যাটার। এরপর ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে একটি সফল ওপেনিং জুটি গড়েন তুলেন তিনি।
বিদায়বেলায় খাজা আক্ষেপ করে জানান, পার্থে সিরিজের প্রথম টেস্টে পিঠের চোটের পর সংবাদ মাধ্যম তাকে যেভাবে আক্রমণ করেছিল, তা প্রমাণ করে যে তার জাতিগত কারণে তাকে এখনও অন্যদের চেয়ে আলাদাভাবে দেখা হয়।















মন্তব্য করুন: