সিরিজের সর্বোচ্চ রানের সিডনি টেস্টে শেষ হাসি অস্ট্রেলিয়ার
৮ জানুয়ারি ২০২৬
জ্যাকব বেথেলের একার লড়াইয়ে পঞ্চম দিনে গড়িয়েছিল সিডনি টেস্ট। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে শেষ ২ উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডকে বড় লক্ষ্য দিতে দেননি মিচেল স্টার্ক। জবাবে নিয়মিত বিরতিতে অস্ট্রেলিয়া উইকেট হারালেও নাটকীয় কিছু আর হয়নি। সিরিজে সর্বোচ্চ রানের ম্যাচটি ৫ উইকেটে জিতে ৪-১ ব্যবধানে এবারের অ্যাশেজ জিতেছে অজিরা।
বৃহস্পতিবার সিডনিতে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টের শেষ দিন ৩৪২ রানে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। ১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির পর লক্ষ্যে পৌঁছায় অস্ট্রেলিয়া।
পেসারেদের দাপটের এবারের অ্যাশেজে এই ম্যাচে চার ইনিংস মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৫৪ রান হয়েছে। এর আগে অ্যাডিলেইডে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে চার ইনিংস মিলিয়ে ১ হাজার ৩৫৮ রান হয়েছিল।
৮ উইকেটে ৩০২ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করা ইংল্যান্ডের ইনিংসের স্থায়িত্ব ছিল ১৩ ওভার ২ বল। আগের দিন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া বেথেল দেড়শ পূর্ণ করেন ২৪৩ বলে। এরপর ১৫৪ রান করা বাঁহাতি এই ব্যাটারকে কট বিহাইন্ড করান স্টার্ক। জশ টাংকে (৬) তুলে নিয়ে ইংলিশ ইনিংসের ইতি টানেন বাঁহাতি এই পেসার।
এই ইনিংসে ৩ উইকেট নেওয়া স্টার্ক সিরিজ শেষ করেন ৩১ উইকেট নিয়ে। বলের পাশাপাশি ব্যাট হাতে ১৫৬ রান করে সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতেছেন তিনি। এছাড়া এক যুগ পর প্রথম কোনো বোলার হিসেবে এক অ্যাশেজে ৩০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন এই পেসার। সবশেষ ২০১৩-১৪ অ্যাশেজে ৩৭ উইকেট নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার আরেক বাঁহাতি পেসার মিচেল জনসন।
লক্ষ্য তাড়ায় অস্ট্রেলিয়াকে ভালো শুরু এনে দেন ট্র্যাভিস হেড ও জেইক ওয়েদারল্ড। তবে টাংকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে হেড (২৯) বিদায় নিলে ভাঙে ৬২ রানের উদ্বোধনী জুটি।
প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকানো ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা হেড এবারের অ্যাশেজ শেষ করলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে। ১০ ইনিংসে ৬২ দশমিক ৯০ গড় এবং তিন সেঞ্চুরিতে বাঁহাতি এই ব্যাটার করেছেন ৬২৯ রান। ২০১৯ সালে এক অ্যাশেজে সবশেষ ছয়শ বা তার বেশি রান করেছিলেন স্টিভ স্মিথ।
সঙ্গীর বিদায়ের পর মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির আগে ৩৪ রান করে টাংয়ের শিকার হয়ে ফেরেন ওয়েদারল্ড। বিরতির পর উইল জ্যাকসের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন স্মিথ (১২)। ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংস খেলতে নামা উসমান খাজা বোল্ড হন ৬ রান করে। অ্যালেক্স ক্যারির সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউটে কাটা পড়েন মার্নাস লাবুশেন (৩৭)।
৪০ রানের ভেতর ৪ উইকেট হারানো স্বাগতিকদের এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি ক্যারি (১৬*) ও ক্যামেরন গ্রিন (২২*)।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে জো রুটের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৩৮৪ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। জবাবে হেড ও স্মিথের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া করে ৫৬৭ রান। প্রথম ইনিংসে তারা লিড পায় ১৮৩ রানের।















মন্তব্য করুন: