বিপিএলের দুই-তৃতীয়াংশ শেষে দুশ্চিন্তা বিশ্বকাপ দলের ব্যাটিং
১৩ জানুয়ারি ২০২৬
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতির সবশেষ ক্ষেত্র হলো বিপিএল। ৩৪ ম্যাচের এবারের আসরে সিলেট পর্বেই খেলা হয়েছে ২৪টি ম্যাচ বা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি। এই পর্বে বিশ্বকাপ দলে থাকা বোলাররা দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও চরমভাবে হতাশ করেছেন ব্যাটাররা। বিশেষ করে টপ-অর্ডারদের ব্যাটে যেন দেখা দিয়েছে রানের খরা।
এবারের বিশ্বকাপ দলে থাকা টপ-অর্ডারের চার ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছেন সাইফ হাসান। গত আগস্টে জাতীয় দলে ফেরার পর থেকে টি-টুয়েন্টিতে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটার। দারুণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে এই ফরম্যাটে দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাকে। কিন্তু এবারের বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে ৭ ইনিংসে রান করেছেন মাত্র ৪৮, স্ট্রাইক রেট ৭২ দশমিক ৭২। সর্বোচ্চ ইনিংস ২২ রানের। ডাক মেরেছেন পরপর দুই ম্যাচে।
সহ-অধিনায়কের মতো দলের আরেক হতাশার নাম অধিনায়ক লিটন দাস। রংপুর রাইডার্সের হয়ে ৮ ইনিংসে এখন পর্যন্ত কোনো ফিফটির দেখা পাননি তিনি। ১৩৫ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ১৬২, সর্বোচ্চ ৪২।
টপ-অর্ডারদের মধ্যে ছন্দে আছেন কেবল পারভেজ হোসেন ইমন। সিলেট টাইটান্সের হয়ে খেলা বাঁহাতি এই ব্যাটার ৯ ইনিংসে ১৩০ দশমিক ৩১ স্ট্রাইক রেটে ২৮৮ রান নিয়ে আছেন রান-সংগ্রাহকের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। ওপেনিং ও চার নম্বরে ব্যাটিং করে ফিফটি হাঁকিয়েছেন তিনটি।
অন্যদিকে জাতীয় দলের নিয়মিত ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাট জ্বলে ওঠে কেবল সবশেষ ম্যাচে। রংপুরের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ৭৬ রানের ইনিংস ছাড়া পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তেমন কিছু করতে পারেননি রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের এই ব্যাটার। ৮ ইনিংসে ১২৬ দশমিক ৭১ স্ট্রাইক রেটে তিনি ১৬৬ রান করেছেন। ফিফটি হাঁকিয়েছেন একটি।
বিশ্বকাপ দলে মিডল-অর্ডারের ব্যাটারদের মধ্যে ভালো অবস্থানে আছেন কেবল তাওহিদ হৃদয়। রংপুরের হয়ে খেলা ডানহাতি এই ব্যাটার ৮ ইনিংসে ১২৭ দশমিক ৭৭ স্ট্রাইক রেটে ২০৭ রান করেছেন। তবে তিনি সর্বোচ্চ অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংসটি খেলেন ওপেনিংয়ে নেমে।
নুরুল হাসান সোহান এখন পর্যন্ত ব্যাট হাতে দুই অঙ্কই স্পর্শ করতে পারেননি। রংপুরের অধিনায়ক ৮ ম্যাচে ৬ ইনিংসে রান করেছেন মাত্র ৩০। ডানহাতি এই ব্যাটারের সর্বোচ্চ ইনিংসটি হলো ৯ রানের।
ফিনিশারের ভূমিকায় থাকা শামীম হোসেন পাটোয়ারী ঢাকার হয়ে ৭ ইনিংসে ১৫৪ দশমিক ৬৩ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ১৫০ রান, সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ৮১ রানের।
সিলেট পর্ব শেষে বিপিএলের সর্বোচ্চ রান-সংগ্রাহক হলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বর্তমানে টি-টুয়েন্টি দলের বাইরে থাকা রাজশাহীর অধিনায়ক ৮ ইনিংসে একটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটিতে ২৯২ রান করেছেন। স্ট্রাইক রেট ১৪২ দশমিক ৪৩।
ব্যাটারদের এমন ছন্নছাড়া অবস্থায় নির্বাচকরা চাইলেই শান্তকে বিশ্বকাপ দলে নিতে পারবে। কেননা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো কারণ ছাড়াই স্কোয়াডে পরিবর্তন আনতে পারবে অংশগ্রহণকারী দলগুলো।















মন্তব্য করুন: